• দিল্লিতে মিলছে না ঘরভাড়া, বিপাকে কাশ্মীরি মুসলিমরা
    বর্তমান | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • নয়াদিল্লি: লালকেল্লা চত্বরে জঙ্গি হামলা বদলে দিয়েছে অনেক কিছু। সেই বদলটাই এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন কাশ্মীরি মুসলিমরা। তাঁদের আর বাড়ি ভাড়া জুটছে না দিল্লিতে। আতান্তরে পড়ে কেউ ফিরে যাচ্ছেন কাশ্মীরে। কেউ আবার সাধ্যের বাইরে গিয়ে গুরুগ্রামের মতো জায়গায় বেশি ভাড়া দিয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। মারিয়া বিলালের কথাই ধরা যাক। মারিয়ার দীর্ঘ ১৩ বছর কেটেছে দিল্লিতে। মাস তিনেক আগে কাজ থেকে সাময়িক ছুটি নিয়েছিলেন তিনি। এরপর ফিরে এসে দেখেন বিলকুল বদলে গিয়েছে দিল্লি। কেউ আর তাঁকে বাড়ি ভাড়া দিতে রাজি নয়। সবকিছু দেখে ৩৬ বছরের মারিয়ার মনে হচ্ছে, ‘এই শহর আর আমাকে চায় না।’

    আগে লাজপৎ নগরে থাকতেন মারিয়া। এখন আর সেই বাড়ি ফাঁকা নেই। অগত্যা দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। তাঁকে লালপৎ নগরের পাশাপাশি জংপুরা, বিবেক বিহার এবং নয়ডায় ঘর দেখিয়েছেন দালালরা। সবকিছু মিটে যাওয়ার পরে চুক্তি করতে গিয়েই ঘটছে বিপত্তি। পিছিয়ে যাচ্ছেন বাড়ি মালিকরা। প্রত্যেকবারই দালালরা জানাচ্ছেন, কাশ্মীরি মুসলিমকে কেউ বাড়িভাড়া দিতে চাইছে না। মারিয়ার আক্ষেপ, ‘এখানেই আমার বন্ধুবান্ধব রয়েছেন। অতীত ছেড়ে এখানেই আমার পরিচয় গড়ে তুলেছি। এখন মনে হচ্ছে আমি এখানে একা।’ নিজের পেশা, অতীতে সরকারের হয়ে কাজ করার শংসাপত্র সবই দেখিয়েছেন তিনি। তবে কারও সন্দেহ যেন যাচ্ছে না! অবশেষে একজন বাড়িভাড়া দিতে রাজি হওয়ায় মারিয়া ভেবেছিলেন, দুর্ভোগ কাটল বলে। কিন্তু বাড়ির মালিক মাত্রাছাড়া ভাড়া চেয়েছেন। মাসে ২০ হাজার টাকা! তা মারিয়ার সাধ্যের বাইরে। আপাতত শ্রীনগরেই ফিরতে হয়েছে তাঁকে। 

    ওমর পীরজাদারও দিল্লিতে মাথা গোঁজার ঠাঁই মেলেনি। অগত্যা গুরুগ্রামে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি। ওমরের কথায়, ‘এখানে আমরা ধর্ম নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। দিল্লিতে ঘর না পেয়েই আসতে বাধ্য হয়েছি। যদিও ভাড়া অনেক। দিল্লিতে সস্তার ঘর খুঁজছি। তবে কাশ্মিরী মুসলিমকে কেউ ঘর দেবে কি না, জানি না।’ দিল্লিতে সম্পত্তি কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী নীরজ সায়গল সমস্যার কথা মেনে নিয়েছেন। তবে তাঁর সংযোজন, ‘সকলেই ধর্মের কারণে বাড়িভাড়া দেওয়া থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন, এমনটা নয়।’
  • Link to this news (বর্তমান)