জলপাইগুড়ি পুরসভার ভাঁড়ে মা ভবানী, প্রতিমাসে ঘাটতি ৫০ লক্ষের বেশি টাকা! সৈকত-সন্দীপের কাজিয়ার মাঝেই নয়া সংকট
বর্তমান | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের কাজিয়ার মাঝেই জলপাইগুড়ি পুরসভার ‘ভাঁড়ে মা ভবানী’ অবস্থা ফাঁস। অস্থায়ী কর্মীদের মাইনে, ইপিএফের বকেয়া ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন দিতে গিয়ে প্রতিমাসে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে গড়ে ৫০ লক্ষেরও বেশি টাকা। আর ওই ঘাটতি মেটাতে কখনও ব্যাংকের আমানত ভেঙে, কখনও আবার একখাতের টাকা অন্যখাতে খরচ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ।
পুরসভা সূত্রে খবর, বিগত বেশ কয়েকমাস ধরে এমনটা চললেও বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতমাসে জলপাইগুড়ি পুরসভায় ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৬৯ লক্ষ টাকা। যা চলতি মাসে অর্থাৎ নভেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ ঘাটতি মেটানো সম্ভব, কার্যত তার দিশা খুঁজে পাচ্ছেন না পুরসভার আধিকারিকদের একাংশ। ঘাটতি মেটাতে যেভাবে প্রতিমাসে ব্যাংকের আমানতে হাত পড়ছে, তাতে অচিরেই হাল আরও খারাপ হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন পুরসভার অন্দরের অনেকে।
একদিকে যখন অর্থ সংকটে জেরবার জলপাইগুড়ি পুরসভা, সেসময় অনেকটা ‘গোঁদের উপর বিষফোঁড়া’র মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ মাহাতর বিবাদ। শুক্রবারও পুরসভামুখো হননি সন্দীপ। সূত্রের খবর, গোঁসা হওয়ার পর থেকে সৈকত বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তা রিসিভ করেননি ভাইস চেয়ারম্যান। বৃহস্পতিবার বাড়িতে এসে সন্দীপের সঙ্গে কথা বলে যান উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ। তারপরও কেন পুরসভায় পা রাখছেন না সন্দীপ? তাঁর জবাব, পুরসভায় কাজ করার ক্ষেত্রে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা দলের রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছি। সেখান থেকে আমার কাছে বার্তা না আসা পর্যন্ত পুরসভায় যাব না।
এদিন দুপুরে অবশ্য সৈকত পুরসভায় আসেন। নিজের চেম্বারে বসে কাজ করেন। সন্দীপ ইস্যুতে তাঁর মন্তব্য, চেয়ারম্যান হিসেবে আমার যে কাজ, সেটা করছি। অন্য বিষয়ে বলতে পারব না। পুরসভার আর্থিক সংকট প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, আমরা আয় বাড়ানোর যথাসম্ভব চেষ্টা করছি। রাতারাতি ঘাটতি মেটানো সম্ভব নয়। তবে যতটা ঘাটতি কমানো যায়, তার চেষ্টা চলছে।
দীর্ঘদিন ধরে জলপাইগুড়ি পুরসভায় স্থায়ী কর্মী নিয়োগ হয়নি। অথচ যথেচ্ছ হারে অস্থায়ী কর্মী নেওয়া হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, বর্তমানে ওই অস্থায়ী কর্মীদের মাইনে দিতে গিয়ে প্রতিমাসে খরচ হয় প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। পেনশন বাবদ আগে মাসে লাগত ৩৬ লক্ষ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ লক্ষ টাকা। স্থায়ী কর্মীদের বেতনেরও একটা অংশ পুরসভাকে বহন করতে হয়। বকেয়া সহ এখন মাসে ইপিএফ বাবদ জমা দিতে হয় সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা। এছাড়া বিদ্যুতের বিল, গাড়ির তেল সহ পুরসভা পরিচালনায় আনুষঙ্গিক নানা খরচ রয়েছে মাসে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা। অথচ মাসে ট্যাক্স বাবদ ৩৫ লক্ষ টাকার বেশি আদায় হয় না। এই পরিস্থিতিতে দিনবাজারে মার্কেট কমপ্লেক্সের মতো স্থায়ী সম্পদ বিক্রি বা লিজের কথা ভাবছে পুরসভা। যদিও পুরসভা কোনও সম্পদ বিক্রির চেষ্টা করলে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে সিপিএম।