• কালিয়াচকের সালিশি সভায় খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ১৩
    বর্তমান | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: কালিয়াচকের সালিশি সভায় নৃশংস খুনের ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ঘটনার একদিন পরও গোটা এলাকা থমথমে। দফায় দফায় চলছে পুলিশি টহলদারি। এলাকায় এখনও বসানো রয়েছে পুলিশ পিকেট। 

    সালিশি সভায় দুই তৃণমূল কর্মীকে নৃশংস খুনের ঘটনায় যে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে চার জন মহিলা। শুক্রবার যদিও ১১ জন অভিযুক্তকে সিজেএম কোর্টে পেশ করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, শামসুল সেখ সহ দুই অভিযুক্ত মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

    পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব বলেন, এই ঘটনায় মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সবদিক খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৩ জন অভিযুক্তের মধ্যে শামসুল সেখ স্থানীয় তৃণমূল নেতা। নৃশংস এই ঘটনায় তৃণমূলের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক দল। তৃণমূল কংগ্রেসের মালদহ জেলার মুখপাত্র আশিস কুণ্ডু অবশ্য বলেন, অপরাধীদের কোনও রং হয় না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলায় আইনের শাসন আছে। কাজেই আইন আইনের পথে চলবে। 

    সরকারি আইনজীবী দেবজ্যোতি পাল বলেন, ধৃতদের তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। 

    প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার সকালে কালিয়াচকের একটি সালিশি সভায় লাঠি, বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে ও হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয় তৃণমূল কর্মী একরামুল শেখকে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হন। রাতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় বাদশা শেখ নামে আর এক তৃণমূল কর্মীর। 

    শুক্রবার বাদশার আত্মীয় রাসেল শেখ সরব হন স্থানীয় বুথ সভাপতি  শামসুল শেখের বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ,বৃহস্পতিবার সালিশি সভায় হামলার পর রাতে ফের শামসুলের অনুগামীরা বাড়ির লোকেদের হুমকি দেয়। সালিশি সভা চলাকালীন শামসুল শেখ ও তার দলবল ধারালো অস্ত্রশস্ত্র, লাঠি নিয়ে হামলা চালায়।
  • Link to this news (বর্তমান)