৮ বছর ধরে নিরুদ্দেশ, সতীন সহ স্বামীকে ‘খুঁজে’ দিল এসআইআর
বর্তমান | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
সংবাদদাতা, ঘাটাল: এসআইআর প্রক্রিয়া খুঁজে দিল ‘নিরুদ্দেশ’ স্বামীকে! আটবছর আগে আচমকা স্ত্রী-সন্তানদের ছেড়ে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন স্বামী। ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করে জমা দিতেই হল পর্দাফাঁস। দেখা গেল, ঘাটালের মৌসুমী মাইতির স্বামী কার্তিক মাইতি দিব্যি আছেন অন্য জায়গায়। নতুন সংসার পেতেছেন। কার্তিকবাবুর বাড়ি ঘাটাল বিধানসভার কিশোরচক বুথে। নতুন সংসারের ঠিকানায় নিজের নাম তুলে নিয়েছিলেন। এসআইআরের লিঙ্কেজ খুঁজে দিল কার্তিককে।
তা হাতে পেয়ে ক’দিন আগে মৌসুমী কিশোরচকের বিএলওর কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে সটান চলে গিয়েছিলেন স্বামীর নতুন ঠিকানা দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের নাটাগাছিতে। গিয়ে দেখতে পান, স্বামী নতুন স্ত্রী এবং একটি কন্যাসন্তানকে নিয়ে সংসার করছেন। বৃহস্পতিবার রাতে সবাইকে বাড়িতে নিয়ে আসেন মৌসুমী।
কার্তিক প্রায় ২০ বছর আগে হায়দরাবাদে সোনার কাজে গিয়েছিলেন। সেখানে কিছুদিন থাকার পর বিয়ে করেন। স্ত্রীকে কর্মস্থলে নিয়েও যান। সেখানেই তাঁদের দু’টি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তাঁদের বড় ছেলের এখন বয়স ১৬। মৌসুমী বলেন, ‘হায়দরাবাদে থাকার প্রচুর খরচ। এই অজুহাতে বছর আটেক আগে আমাকে ও দুই সন্তানকে গ্রামে রেখে ফিরে যান উনি।’ তারপরই কার্তিকের ফোন বন্ধ হয়ে যায়। হায়দরাবাদেও ফিরে যাননি তিনি। থানায় মিসিং ডায়েরি করা হয়েছিল। সেখানেই শেষ।
ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয় এসআইআর চালু হতে। বিএলও মায়া দলুই বলেন, ‘মৌসুমীর ফর্ম আপলোড করতে সমস্যা হয়নি। কিন্তু কার্তিকের ফর্ম আপলোড করতে আমাকে অ্যাপ থেকে মেসেজ দেখায় সোনারপুরে কার্তিকের নাম এন্ট্রি হয়ে গিয়েছে। বিষয়টি মৌসুমীকে ফোন করে বিষয়টি জানাই।’ এরপর বৃহস্পতিবার ভোরে মৌসুমী বাপের বাড়ির সদস্যদের নিয়ে সোনারপুরে যান। বলেন, ‘গিয়ে দেখি আমার স্বামী নতুন সংসার পেতেছে। ওদের একটি মেয়েও আছে। জোর করে ওদের গ্রামে নিয়ে আসি।’ কার্তিক বলেন, ‘এখন যিনি দ্বিতীয় স্ত্রী তার সঙ্গে হায়দরাবাদেই প্রেম। ওকে বিয়ে করার জন্যই আমি প্রথম স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখিনি। এখন গাড়ি চালিয়ে সংসার চালাই।’ ওই বুথের বিএলও প্রশান্ত হাজরা বলেন, ‘কার্তিক অনেকদিন ধরেই নাটাগাছিতে বসবাস করছেন।’