ডোমজুড়ে প্রধানকে গুলির পিছনে কি পুরোনো বিবাদ, তদন্তে পুলিশ
বর্তমান | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কি কারণে গুলিবিদ্ধ হলেন ডোমজুড়ের সাঁপুইপাড়া-বসুকাঠি পঞ্চায়েতের প্রধান দেবব্রত মণ্ডল? তার স্পষ্ট উত্তর না মিললেও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশের ধারণা, জমির কারবারকে ঘিরেই এই ঘটনা। পুরোনো আক্রোশের কারণেই দেবব্রত মণ্ডল ওরফে বাবুকে গুলি করা হয়েছে। স্থানীয় দুষ্কৃতী বাসুকে এই ঘটনায় খুঁজছে পুলিশ। সন্দেহভাজন হিসেবে নিশ্চিন্দা থানার পুলিশ দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ষষ্ঠীতলার সিদ্দিকি লজে একটি বউভাতের অনুষ্ঠান সেরে বাইক করে বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন পঞ্চায়েত প্রধান দেবব্রত মণ্ডল। গুলি লাগে তৃণমূল কর্মী অনুপম রানার গায়েও। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বর্তমানে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেবব্রত মণ্ডল। অনুপম ভর্তি রয়েছেন উত্তর হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। দু’জনেই আপাতত স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।
আক্রান্তদের পরিবারের দাবি, গুলি চালিয়েছে বাসুই। প্রধান যাঁর বাইকে চেপে ফিরছিলেন, সেটি চালাচ্ছিলেন তৃণমূল কর্মী অনুপম রানা। লজ থেকে ৫০ মিটার দূরে তাঁদের বাইক থামায় এক সশস্ত্র দুষ্কৃতী। একটি দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়েছে সেই ছবি। তাতে দেখা যায়, দুষ্কৃতীর ছোড়া গুলি বাবু মণ্ডলের কাঁধে লাগে। তিনি বাইক থেকে পড়ে গেলে বাইকচালক অনুপমকেও গুলি করে সে। সেই অবস্থায় প্রধানের সঙ্গে কয়েক সেকেন্ড ধস্তাধস্তি হয় দুষ্কৃতীর। ওই সময় সে ফের গুলি চালালে বাবু মণ্ডলের পেটে লাগে সেটি। এরপর সে চম্পট দেয়। পরে তৃণমূল কর্মীরা এসে রক্তাক্ত পঞ্চায়েত প্রধান ও অনুপমকে উত্তর হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে হাসপাতালে যান হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনার প্রবীণকুমার ত্রিপাঠি সহ পদস্থ আধিকারিকরা। চলে আসে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। রাতেই দেবব্রতবাবুকে পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এদিন সকালে হাসপাতালে গিয়ে গুলিবিদ্ধ পঞ্চায়তে প্রধানের সঙ্গে দেখা করেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। দেবব্রতবাবু দলীয় নেতৃত্ব এবং পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁকে গুলি করেছে বাসুই। তবে সে কেন গুলি চালাল, তা বলতে পারেননি তিনি। তৃণমূলের জেলা সভাপতি গৌতম চৌধুরী বলেন, ‘এটি কোনও রাজনৈতিক ঘটনা নয়। ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেই এই হামলা। অভিযুক্তকে ধরতে পুলিশ তৎপর।’ পুলিশ কমিশনার বলেন, খুব দ্রুত ধরা পড়বে দুষ্কৃতী।
এদিকে, ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে আসেন বাবুর দিদি তন্দ্রা হাজরা। তাঁর কথায়, ‘ও কোনও ঝামেলায় থাকত না। কারও সঙ্গে শত্রুতাও ছিল না।’ তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বছর তিনেক আগে স্ত্রীর মৃত্যুর পর দাদা-বউদি ও মেয়েকে নিয়ে থাকতেন বাবু। পঞ্চায়েত প্রধান হওয়ার পাশাপাশি মাছের ভেড়ি, লজ, প্রোমোটিং ও ইমারতি সামগ্রীর ব্যবসা রয়েছে তাঁর। বহু বছর আগে প্রোমোটিংকে কেন্দ্র করেই স্থানীয় দুষ্কৃতী বাসুর সঙ্গে সংঘাত চরমে পৌঁছেছিল। তখন একবার বাবুকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। সে যাত্রায় অল্পের জন্য রক্ষা পান তিনি। স্থানীয়দের কথায়, সম্প্রতি দু’জনের মধ্যে সম্পর্কে শিথিলতা আসে। দুর্গাপুজোর সময় মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে পাড়ার যুবকদের হুমকি দিয়েছিল বাসু। সেবার পুলিশি অভিযানের হাত থেকে তাকে বাঁচিয়েছিলেন বাবু মণ্ডলই।