গৃহবধূ খুনে আইনজীবী স্বামী সহ চারজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড
বর্তমান | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
সংবাদদাতা, বনগাঁ: গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে খুনের ঘটনায় আইনজীবী স্বামী এবং শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেওরকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন বিচারক। শুক্রবার বনগাঁ আদালতের বিচারক (এডিজে ১) কল্লোলকুমার দাস এই নির্দেশ দেন। ওইসঙ্গে বধূনির্যাতনের ঘটনায় তিনবছরের জেল এবং এক হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে আরও তিনমাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে দোষীদের। দোষীরা হলেন মৃতার স্বামী রথীন্দ্রনাথ সেন, শ্বশুর রবীন্দ্রনাথ সেন, শাশুড়ি সুপ্তারানি সেন এবং দেওর রজত সেন।
২০২২ সালের ৮ এপ্রিল বনগাঁ থানার শক্তিগড়ে শ্বশুরবাড়িতে খুন হন গৃহবধূ প্রিয়া সেন বিশ্বাস ওরফে ইতু। পরদিন মৃতার মা মমতা বিশ্বাস বনগাঁ থানায় মেয়ের স্বামী , শ্বশুর, শাশুড়ি এবং দেওরের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে অভিযুক্ত চারজনকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার আদালত তাঁদেরকে দোষী সাব্যস্ত করে। শুক্রবার সাজা ঘোষণা করেন বিচারক। এদিন মেয়ের খুনিদের শাস্তির খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা মমতা বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘মেয়েকে আমি আর কোনওদিন ফিরে পাব না। তবু খুনিদের শাস্তি হওয়ায় আমি খুশি।’
খুনের তিনবছর আগে মছলন্দপুরের বাসিন্দা ইতুর সঙ্গে বনগাঁ শক্তিগড়ের বাসিন্দা পেশায় আইনজীবী রথীন্দ্রনাথ সেনের বিয়ে হয়। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে মেয়েকে নানাভাবে অত্যাচার করা হত। ঘটনার দিন স্বামীসহ পরিবারের সকলে মিলে দুবছরের মেয়ের সামনে ইতুকে শ্বাসরোধ করে খুন করে। এক প্রতিবেশী সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ফোন করে মৃতার দিদিকে খবর দেন। বাপের বাড়ির লোকেরা ছুটে এসে মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। ঘটনার পর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে প্রতিবেশীরা। কিছু লোক দোষীদের বাড়িতে ভাঙচুরও চালায়। জানা গিয়েছে, নৃশংসভাবে গৃহবধূকে খুন করা হয়েছিল। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছিল। তাঁর হাত ভেঙেই দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় ১৪ জনের সাক্ষ্য নিয়েছে আদালত। এই মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী সন্দীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘গৃহবধূকে খুনের ঘটনায় দোষীসাব্যস্ত স্বামীসহ পরিবারের চার সদস্যকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক কল্লোলকুমার দাস। পাশপাশি বধূনির্যাতন মামলায় আরও তিনবছরের জেল এবং এক হাজার টাকা জরিমানা ঘোষণা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও তিনমাসের জেলের সাজা দিয়েছেন বিচারক।’