নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: পুলিশ, সেনা, আধা সেনার চাকরির জন্য সাতদিনের কোচিং সেন্টার। রাজ্যজুড়ে ৬০০ জনকে জোগাড় করা হয়েছিল। তাঁদের হাতে দেওয়া হয়েছিল ‘ম্যাজিক’ প্রশ্নপত্র। তার উত্তর দিলেই চাকরি পাকা! এজন্য পরীক্ষার্থীকে গুনতে হবে ‘মাত্র’ ১০ হাজার টাকা। চাকরি হয়ে গেলে আরও মোটা টাকা দিতে হবে। এই ব্যাপারে বারাকপুর মোহনপুর থানা এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারও খোলা হয়। ওই চক্রে পুলিশ, আইনজীবী থেকে শুরু করে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের এজেন্ট। বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে বারাকপুর মোহনপুর থানার পুলিশ ওই সেন্টারে হানা দেয়। পুলিশ প্রথম গ্রেফতার করে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী গোপাল দাস এবং তাঁর সঙ্গী নির্মল বিশ্বাসকে। তাঁদের পুলিশি জেরাতেই খোঁজ পায় মেলে এজেন্টদের। মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের সূত্রে পুলিশ জানতে পারে, এই চক্রের দুই পান্ডা পুলিশ কর্মী! তাঁরা কলকাতা পুলিশে কর্মরত। একজন কর্মরত কাশীপুর থানায় এবং অন্যজন কমব্যাট ফোর্সে। সব মিলিয়ে ধৃত দশজন।
বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট থেকে কলকাতা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগে, এরপরেই দুই পুলিশ কর্মীকে গ্রেফতার করে মোহনপুর থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে একজন কাশীপুর থানার কনস্টেবল সুব্রত দাস, অপরজন কলকাতা পুলিশের কমব্যাট ফোর্সের এএসআই রবিন দাস। তাঁদের কাছে ম্যাজিক প্রশ্নপত্র রয়েছে, এমনই টোপ দেওয়া হয় পরীক্ষার্থীদের। ওই প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দেওয়া মানেই পাশ এবং পাকা চাকরি! সেই টোপ দিয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিচ্ছিল ওই চক্র। পরে বেশি পরিমাণ টাকা দাবি করে তারা। দুই পুলিশ কর্মীকে শুক্রবার বারাকপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক আটদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। সরকার পক্ষের আইনজীবী ছিলেন যদুনাথ ঘোষ।