• ভোটার বাদের তালিকা বাড়ছে বাংলায়? কমিশনের ‘ফতোয়া’! খোঁজ না পেলেও বিলি দেখানো হয়েছে ১০ লক্ষাধিক ফর্ম
    বর্তমান | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: ভোটারদের পূরণ করা ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ চলছে জোরকদমে। হাতে আর মাত্র ৬ দিন। ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে এই কাজ শেষ করতে হবে বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও)। ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। আর এসবের মধ্যেই জানা যাচ্ছে, রাজ্যজুড়ে ১০ লক্ষেরও বেশি ইনিউমারেশন ফর্ম বিলিই করা হয়নি! এখানেই শেষ নয়। ওই সব বিলি না হওয়া ফর্ম যথাযথ ভোটারদের বিলি করা হয়েছে বলেই ‘বিএলও অ্যাপে’ দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, বিএলওদের এমনটা করার জন্য রীতিমতো ‘ফতোয়া’ দেওয়া হয়েছে কমিশনের অন্দরমহল থেকে। আসলে এই ১০ লক্ষাধিক ফর্ম এখনও পড়ে রয়েছে বিএলওদের কাছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বাংলায় ভোটার বাদের তালিকা কি তাহলে আরও বাড়ছে? 

    ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি পর্বে কোনও ভোটারের খোঁজ না মিললে, বিএলওদের অন্তত তিনবার সংশ্লিষ্ট ভোটারের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করা বাধ্যতামূলক ছিল। এমনকি মৌখিকভাবে ফর্ম বিলির সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিল কমিশন। যাবতীয় নির্দেশ পালনের পর দেখা যায়, প্রায় প্রত্যেক বুথে বেশ কয়েকজন ভোটারের খোঁজ না মেলায় তাঁদের ফর্ম বিলি করা যায়নি। সূত্রের খবর, যেসব বুথে ভোটার সংখ্যা কম, সেখানে নিখোঁজ ভোটারের সংখ্যাও কম। তুলনামূলকভাবে যেসব বুথে ভোটারদের সংখ্যা বেশি, সেখানে বিলি না হওয়া ফর্মে সংখ্যাও বেশি। রাজ্যজুড়ে এমন বিলি না হওয়া ইনিউমারেশন ফর্মের সংখ্যাই অন্তত ১০ লক্ষাধিক। ইনিউমারেশন পর্বের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে ওই বিলি না হওয়া ফর্মগুলির ভবিষ্যৎ সম্পর্কেই সংশ্লিষ্ট ইআরও এবং এইআরওদের কাছে জানতে চান বিএলওরা। তখনই তাদের পড়ে থাকা ফর্ম বিলি হয়েছে বলে দেখিয়ে দেওয়ার নির্দেশ আসে বলে সূত্রের খবর। 

    কমিশনের তরফে জানা গিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত রাজ্যে ৬ কোটি ৭৩ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪৪৪টি অর্থাৎ ৮৭.৯১ শতাংশ ফর্ম ডিজিটাইডজ হয়েছে। বুধবারই তথ্য উঠে এসেছিল, যে সংখ্যক ফর্মের ডিজিটাইজেশন হয়েছে, তার প্রায় ২৮ লক্ষ ভোটারের তথ্য ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে ম্যাপিং ও ম্যাচিং (২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে ২০২৫ সালের তালিকার মিল) করানো সম্ভব হয়নি। তার মধ্যে রয়েছে ‘মৃত’, ‘স্থানান্তরিত’ এবং ‘ডুপ্লিকেট’ ভোটার। খসড়া ভোটার তালিকা থেকে এই ২৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়া প্রায় নিশ্চিত। এবার বাদ পড়ার সেই তালিকায় আরও ১০ লক্ষাধিক নাম যুক্ত হতে চলেছে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। কারণ কমিশনের তরফে বিএলওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ৪ ডিসেম্বর ফর্ম ডিজিটাইজেশনের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর ওই বিলি না হওয়া ফর্মগুলি সংশ্লিষ্ট ইআরওদের কাছে জমা দিয়ে দিতে হবে। সেইসঙ্গে আরও নির্দেশ, ওই ফর্মগুলিকে সংগ্রহ করা যায়নি অর্থাৎ ‘আনকালেকটেবল’ হিসেবে দেখাতে হবে অ্যাপে।

    যদিও এই নির্দেশের পর অনেক বিএলও জেলা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, বিলি না হওয়া ফর্মগুলি তাঁরা যখন জমা দেবেন, তখন তাঁদের একটি লিখিত শংসাপত্র দিতে হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএলও বলেন, ‘ফর্মের যাবতীয় কাজের দায়িত্ব বিএলওদের উপর। কাজে ভুল হলে যেহেতু শাস্তির বিধানও রয়েছে, তাই লিখিত শংসাপত্র ছাড়া আমরা বিলি না হওয়া ফর্ম জমা দিতে চাইছি না।’
  • Link to this news (বর্তমান)