• বিপর্যয় মোকাবিলায় বাংলার বকেয়া ৫৩,৬৯৬ কোটি নিয়ে তৃণমূলের ক্ষোভ
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • বিপর্যয় মোকাবিলা খাতে পশ্চিমবঙ্গের বিপুল টাকা বকেয়া রয়েছে বিগত চার আর্থিক বছরে। এই অভিযোগকে সামনে রেখেই বৃহস্পতিবার সংসদের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তীব্র প্রতিবাদ জানাল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বৈঠকের দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় বাংলার প্রতি ‘বঞ্চনা’ এবং কেন্দ্রের কাছে আটকে থাকা প্রাপ্য অর্থের খতিয়ান তুলে ধরে সুর চড়ালেন তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন।

    সূত্রের খবর, বৈঠকে ডেরেক প্রশ্ন তোলেন, দেশের অন্যান্য রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা খাতে বকেয়া ঠিক কত? সেই সঙ্গে তিনি বিগত চার বছরে বাংলার বকেয়ার বিশদ খতিয়ানও তুলে ধরেন। ওই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেন্দ্রের কাছে বাংলার মোট বকেয়ার অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা। বন্যা থেকে ঘূর্ণিঝড়, প্রতিটি বিপর্যয়ের পর ক্ষতির মূল্যায়নে যে অর্থ রাজ্যের পাওয়ার কথা, তা দীর্ঘদিন ধরেই মেলেনি বলে দাবি তৃণমূলের।

    Advertisement

    সেই সঙ্গে ২০১৯ সালের ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর ক্ষতির জন্য কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের বকেয়া ৬ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। ২০২০ সালের মে মাসে আমফান সুপার সাইক্লোনে রাজ্যে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে। সেই বছরের এসডিআরএফ খাতে রাজ্যের বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা। এছাড়া ২০২১ সালে ইয়াসের জন্য বকেয়া ৪ হাজার ২২২ কোটি, ২০২৪ সালের অক্টোবরের ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’র জন্য ১ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা ক্ষতি মেটানো হয়নি বলেও অভিযোগ জানিয়েছেন ডেরেক।

    একই ভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় ক্ষতির জন্য রাজ্যের বকেয়া রয়েছে ৪০৯ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের বন্যা, ভূমিক্ষয় এবং ধসের জন্য বকেয়া আরও ৪ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। ২০২১ সালে উত্তরবঙ্গের বন্যায় দু’দফায় রাজ্যের ক্ষতির অঙ্ক যথাক্রমে ১ হাজার ২২৮ কোটি এবং ১ হাজার ৪০২ কোটি টাকা বলে হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    সূত্রের দাবি, এই মোট ৫৩ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকার বকেয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান তৃণমূল সাংসদ। তাঁর আরও অভিযোগ, বৈঠকে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, কেরল, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি থাকলেও পশ্চিমবঙ্গকে ডাকা হয়নি। সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের রাজ্য সভার সংসদীয় নেতা।

    এদিকে ডেরেকের তুলে ধরা এই পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছ থেকে জবাব চেয়েছেন কমিটির চেয়ারম্যান রাধামোহন দাস আগরওয়াল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আধিকারিকদের জানানো হয়েছে, দরকার হলে ৭ থেকে ১০ দিন সময় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করে জবাব দিতে হবে। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে কমিটির পরবর্তী বৈঠকেও এই বিষয়ে রিপোর্ট পেশ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    প্রসঙ্গত, বাংলার বকেয়া নিয়ে কেন্দ্র–রাজ্য টানাপোড়েন নতুন নয়। তবে সংসদীয় কমিটির এই দফার প্রশ্নোত্তরে তৃণমূলের কড়া অবস্থান ভবিষ্যতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াবে বলেই বিশেষজ্ঞ মহলের অনুমান।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)