বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশ হিসেবে আগেই স্বীকৃতি পেয়েছে ভারত। এ বার সামরিক শক্তিধর দেশ হিসেবে আরও উত্থান হয়েছে ভারতের। সামরিক শক্তির বিচারে বিশ্বের তৃতীয় শক্তিশালী দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ভারত। আর এই উত্থান হয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের পরে।
দেশকে অর্থনৈতিক এবং সামরিক ভাবে আরও শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে নয়াদিল্লি। আর সেই সময়েই ভারত এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্স-২০২৫-এ ‘প্রধান শক্তি’ মর্যাদা অর্জন করেছে। ভারত এই মর্যাদা পেয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের সময় তার পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে। তা হয়েছে শক্তিশালী অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং সামরিক সক্ষমতার উপর নির্ভর করে।
শুক্রবার, অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক লোই ইনস্টিটিউট কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, এই ক্ষেত্রে ভারত বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। এই তালিকায় ভারত আছে কেবলমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চিনের পরে।
ওই সংস্থার পরিসংখ্যান অনুসারে , চলতি বছর ক্ষমতার দিক থেকে শীর্ষ পাঁচটি দেশ হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন, ভারত, জাপান এবং রাশিয়া। সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে, ২০১৮ সালে এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্স চালু হওয়ার পর থেকে আমেরিকার সামগ্রিক ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
তবে ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের পরে ভারতের সামরিক ক্ষমতা অনেক শক্তিশালী হলেও পিছিয়ে পড়েছে পাকিস্তান। শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকার মধ্য জায়গা পায়নি পাকিস্তান। ওই র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বে ১৬ তম স্থানে আছে পাকিস্তান।
লোই ইনস্টিটিউট জানিয়েছে যে ভারতের অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা জানিয়েছে, অর্থনীতি দৃঢ়ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ভূ-রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতার দিক থেকে সামান্য লাভ করেছে ভারত। সেই সঙ্গেই ভারতের সামরিক ক্ষমতাও ক্রমাগত উন্নত হয়েছে।
উল্লেখ্য, পহেলগামে হামলার পরেই চলতি বছর মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান চালায় ভারত। এই অভিযানে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতের সেনাবাহিনী। এরই পাশাপাশি জঙ্গি ঘাঁটি ছাড়াও নিখুঁত অভিযান চালানো হয় পাকিস্তানের সামরিক বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করেও।