SIR-এর আবহে যাতে নাগরিকরা দ্রুত জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র পান, তার জন্য উদ্যোগী হলো কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন। পরের সপ্তাহ থেকে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র (বার্থ অ্যান্ড ডেথ সার্টিফিকেট) প্রদানে আরও বেশি সংখ্যক আবেদন গ্রহণ করবে কলকাতা পুরসভা। বর্তমানে চ্যাটবটের (8335999111) মাধ্যমে রোজ ১৫০ আবেদন গ্রহণ করে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ। পরের সপ্তাহ থেকে তা বেড়ে হবে ৫০০।
সার-এর মাধ্যমে চলছে ভোটার তালিকার ‘শুদ্ধিকরণের’ কাজ। ফর্ম জমা শেষ হলে অনেক মানুষকেই নির্বাচন কমিশনের হিয়ারিংয়ে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে ভোটার প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিও দেখাতে হতে পারে। তাই এসআইআর চালু হতেই বার্থ সার্টিফিকেট এবং ডেফ সার্টিফিকেট তোলার জন্য কেএমসি-তে ভিড় বেড়েছে। ‘গুরুত্বপূর্ণ সময়ে’ যাতে আরেও বেশি সংখ্যক মানুষ রোজ পরিষেবা পান সে জন্যই এই উদ্যোগ কলকাতা পুরসভার।
চ্যাটবটের মাধ্যমে দৈনিক আবেদন গ্রহণ বৃদ্ধির জন্য ইতিমধ্যে পুর স্বাস্থ্য বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি এ বিষয়ে বলেছেন, ‘নাগরিকত্ব প্রমাণের এই কঠিন সময়ে প্রকৃত বার্থ সার্টিফিকেট এবং ডেথ সার্টিফিকেট সঙ্গে রাখা অনিবার্য হয়ে পড়েছে। আমাদের নাগরিকদের পাশে থাকতে হবে। তাঁদের অযথা আতঙ্ক থেকে মুক্ত করতে হবে।’ প্রতি সপ্তাহে ‘টক টু মেয়র’-এর মাধ্যমে নাগরিকদের থেকে বিভিন্ন অভিযোগ শোনেন কলকাতার মেয়র। সেখানেই এক ব্যক্তি সম্প্রতি ফিরহাদ হাকিমকে জানান বারবার চেষ্টা করেও কী ভাবে চ্যাটবটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারছেন না তিনি। এর পরেই এই পদক্ষেপ করলেন পুর কর্তৃপক্ষ।
কলকাতার পুরসভার এক অফিসার জানিয়েছেন, সার-এর হিয়ারিংয়ের আগে জন্ম ও মৃত্যুর সার্টিফিকেটের ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনের জন্য ক্যাম্প করতে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগকে নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কিন্তু কলকাতা পুরসভার ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, চ্যাটবটের মাধ্যমে আবেদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হলেও ক্যাম্প বসিয়ে পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়া অসুবিধার।
কোভিড অতিমারির পরে থেকেই জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র পাওয়ার জন্য চ্যাটবটের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতে এই ধরনের শংসাপত্র প্রদান করা হয়। কিন্তু এই চ্যাট বট ‘খুব স্লো’— এই অভিযোগ ওঠে ভূরিভূরি। কোভিডের আগে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে রোজ ৩০০টি আবেদন প্রসেস করা হতো। চ্যাটবট আসার পরে সেই সংখ্যা অর্ধেক হয়ে গিয়েছিল। সার-এর আবহে তা বাড়ানোর ঘোষণা করল কলকাতা পুরসভা।