• বেআইনি নির্মাণ: শুনানি দ্রুত শেষের নির্দেশ ক্ষুব্ধ মেয়রের
    বর্তমান | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অবৈধ নির্মাণ নিয়ে শুনানির (হিয়ারিং) গতি শ্লথ। ফলে এই প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়ে অনেকেই বেআইনি নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীকালে হিয়ারিং শেষে রায় বেরোলে দেখা যাচ্ছে, নির্মাণ অনেকটাই সম্পূর্ণ! অনেক ক্ষেত্রেই ভাঙার সুযোগ মেলে না। তাই বিল্ডিং সংক্রান্ত শুনানি দ্রুত শেষ করার পরামর্শ দিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বুধবার ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠানে আসা এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিল্ডিং বিভাগের ডিজিকে তেমনটাই নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র। 

    এদিন এক নাগরিক অভিযোগ করেন, বহুদিন আগে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ করেছেন তিনি। কিন্তু, শুনানি হচ্ছে না। তার প্রেক্ষিতে ডিজিকে মেয়রের প্রশ্ন, হিয়ারিংয়ে দেরি হচ্ছে কেন? তাঁর নির্দেশ, শুনানি দ্রুত করতে হবে। মেয়রের বক্তব্য, না-হলে দেরিতে শুনানির সুযোগ নেবে বেআইনি নির্মাণকারীরা। এটা চলতে পারে না। নজরদারি চলবে। হিয়ারিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলে শুনানি দ্রুত করানোর চেষ্টা করতে হবে। 

    যদিও বিল্ডিং বিভাগ সূত্রের খবর, বর্তমানে হিয়ারিং অফিসার অর্থাৎ স্পেশাল অফিসার বিল্ডিং রয়েছেন মাত্র তিনজন। আগে একজন ছিলেন। সম্প্রতি আরও দুজনকে নেওয়া হয়েছে। তবুও সামলানো যাচ্ছে না। কারণ, গোটা শহরের ১৬টি বরো অঞ্চলে রোজই অন্তত ৫০-৬০টি বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ জমা পড়ছে। অভিযুক্তদের নোটিশ ধরানো হচ্ছে। চালু আছে সেগুলিতে শুনানির প্রক্রিয়া। তবে মাত্র তিনজন হিয়ারিং অফিসারের পক্ষে দ্রুত শুনানি শেষ করা সম্ভব নয়। 

    এক অফিসার বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সহজ কেস থাকলে একদিনেই শুনানি শেষ হয়ে যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে শুনানিতে অনুপস্থিত অভিযুক্ত অথবা অভিযোগকারীর মধ্যে কোনও একজন। তখন শুনানি চলে না। ডেট পিছোয়। জটিল কেসে শুনানি হতে পারে একাধিকবার। স্বভাবতই প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ। এই প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা এবং লোকবলের অভাবে নাগরিক সমস্যার সমাধান বিলম্বিত হচ্ছে। এদিকে, হিয়ারিং অফিসারের অর্ডারে আপত্তি থাকলে আবেদন জানানো যায় বিল্ডিং ট্রাইবিউনালে। তখন কেস মিটতে আরও দেরি হয়। সবশেষে খোলা থাকে কোর্টেরও দরজা।
  • Link to this news (বর্তমান)