• ‘পলাতক ঋণখেলাপি’ সরাতে চান পিএনবি কেলেঙ্কারির নায়ক মেহুল চোকসি, কী বলল আদালত?
    প্রতিদিন | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের কয়েকশো কোটি টাকা হজম করে চম্পট দিয়েছেন তিনি। রয়েছে আরও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ। দেশের বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হতেও নারাজ। সেই মেহুল চোকসির আবদার তাঁর নামের পাশ থেকে সরিয়ে দিতে হবে ‘পলাতক ঋণখেলাপি’র তকমা। যা কিনা পত্রপাট খারিজ করে দিল আদালত।

    পিএনবি থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা তছরূপের অভিযোগ রয়েছে গুজরাটের বছর পঁয়ষট্টির হিরে ব্যবসায়ী মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে। গুজরাটের এই হিরে ব্যবসায়ী ২০১৮ সালে দেশ ছেড়ে পালান। সেই সময় দেশ ছাড়েন আরেক ঋণখেলাপী তাঁরই ভাইপো নীরব মোদিও। প্রথমে গা ঢাকা দিয়েছিলেন দ্বীপদেশ অ্যান্টিগায়। আদালতে বারবার চোকসি জানান, তিনি আর ভারতীয় নন, অ্যান্টিগার নাগরিক। কিন্তু এদেশের নাগরিকত্ব ছাড়েননি। ফলে নিয়ম মেনেই বিদেশ থেকে তাঁকে প্রত্যর্পণে পদক্ষেপ করে নয়াদিল্লি। ২০২৪ সালে সিবিআই জানতে পারে, চোকসি বেলজিয়ামে গা ঢাকা দিয়েছেন। তখনই বেলজিয়াম সরকারের কাছে প্রত্যর্পণের আর্জি জানানো হয়। সেখানকার আদালতের নির্দেশে এপ্রিল মাসে হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার হন প্রতারক হিরে ব্যবসায়ী।

    চোকসির দাবি, তিনি পিএনবি কেলেঙ্কারিতে এখন জেলে। সেই মামলায় বেলজিয়ামের সঙ্গে প্রত্যর্পণ মামলা চলছে ভারতের এজেন্সিগুলির। ফলে তাঁকে আর পলাতক ঋণখেলাপি বলা যাবে না। পালটা ইডি দাবি করে, মেহুল চোকসি ভারতে ফিরতে চান না। তিনি প্রত্যর্পণ মামলায় ভারতের এজেন্সিগুলির বিরুদ্ধেই লড়ছেন। যতদিন না তিনি দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছেন তাঁর পলাতক তকমা ঘুচবে না। ইডির সেই সওয়াল মেনে নিয়েছে বিশেষ আদালত। মেহুলের পলাতক তকমা এখনই যাচ্ছে না।

    উল্লেখ্য, বেলজিয়ামের আদালত ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, যে অপরাধের অভিযোগ মেহুলের বিরুদ্ধে রয়েছে, সেগুলি প্রমাণিত হলে বেলজিয়ামের আইন মোতাবেকও সেগুলি শাস্তিযোগ্য। তবে মেহুলকে ভারতে ফেরানোর পথে একটাই বাধা ছিল। এ দেশের জেলগুলির পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল বেলজিয়াম। মেহুলের জন্য উপযুক্ত ন্যূনতম জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় সুবিধাযুক্ত জেলের ব্যবস্থা করতে পারবে কিনা ভারত সরকার, জানতে চেয়েছিল বেলজিয়াম। সেই দাবিও পূরণ করেছে নয়াদিল্লি। বেলজিয়ামের প্রশাসনকে চোকসির জন্য যে জেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে সেটার বিস্তারিত পাঠিয়ে দিয়েছে দিল্লি। এরপর বেলজিয়াম আদালতে কী রায় হয় সেটাই দেখার।
  • Link to this news (প্রতিদিন)