• বায়ুর পরে দিল্লির জলেও বিষ, মিলল ইউরেনিয়ামের মাত্রাছাড়া উপস্থিতি
    এই সময় | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • বায়ু ভয়ঙ্কর ভাবে দূষিত। দিনভর তা নিয়েই বেঁচে থাকতে হয় দিল্লির বাসিন্দাদের। এ বার চরম বিপদ জলেও। ২০২৫ সালের অ্যানুয়াল গ্রাউন্ড ওয়াটার কোয়ালিটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে শুক্রবার। দিল্লিতে মাটির তলার জল নিয়ে ভয়ানক তথ্যে উঠে এসেছে সেখানে। ইউরেনিয়াম-সহ একাধিক হেভি মেটাল মিলেছে দিল্লির মাটির তলার জলে। যা দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ অসুস্থ করতে পারে নাগরিকদের।

    যাঁরা পানীয় জলের জন্য মূলত বোরওয়েল বা গভীর নলকূপ এবং হ্যান্ড পাম্পের উপর নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য বিপদ বেশি। দিল্লি থেকে যতগুলো নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল তার ১৩-১৫ শতাংশ নমুনায় ইউরেনিয়াম ও ভারী ধাতুর উপস্থিতি মিলেছে বলে রিপোর্টে দাবি। জল মন্ত্রকের অধীনে থাকা সেন্ট্রাল গ্রাউন্ড ওয়াটার বোর্ডের এই রিপোর্টটি তৈরি হয়েছে সারা দেশ থেকে নেওয়া ১৫০০০ নমুনার উপর ভিত্তি করে। আমাদের দেশে পানীয় জলে কোন পদার্থের সহনশীল মাত্রা কতটা, সেটা ঠিক করে দেয় ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড। তার ভিত্তিতে দেখা গিয়েছে, দিল্লিতে ৮৬টি এলাকায় মাটির তলার জলের মধ্যে ব্যাপক দূষণ রয়েছে।

    ইউরেনিয়াম

    লেড বা সীসা

    আয়রন

    নাইট্রেট

    ফ্লুওরাইড

    ক্লোরিন-সহ আরও নানা দৃষক

    ভারতের উত্তর-পশ্চিমের রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে মাচির তলার জলে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থানের কিছু কিছু এলাকা, উত্তরপ্রদেশের কিছু এলাকা এবং দিল্লিতে ইউরেনিয়াম দূষণের পরিমাণ বেশি। এর পিছনে ভূতাত্ত্বিক কারণ, গ্রাউন্ড ওয়াটার বা মাটির তলার জল ক্রমশ কমে আসা এবং অ্যাকুইফারের ধরনের উপর নির্ভর করে। রিপোর্ট জানাচ্ছে, গোটা ভারতে মাটির তলার জলে ইউরেনিয়ামের মাত্রার নিরিখে তৃতীয় স্থানে রয়েছে দিল্লি। শীর্ষ দুই স্থানে রয়েছে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা।

    ইউরেনিয়াম ছাড়াও দিল্লির জলে নাইট্রেট ও ফ্লুওরাইডের মাত্রাও আশঙ্কা তৈরি করেছে। সেন্ট্রাল গ্রাউন্ড ওয়াটার বোর্ডের রিপোর্ট জানাচ্ছে, বর্ষার আগে ও পরে দুই সময়েই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল যাতে মরশুমে বদল হলে দূষকের মাত্রায় পরিবর্তন হয় কিনা বোঝার জন্য। যদিও সবক্ষেত্রেই দূষকের হদিশ মিলেছে। পাওয়া গিয়েছে লেড বা সীসার উপস্থিতিও।

  • Link to this news (এই সময়)