• ‘হাই কম্যান্ড সিদ্ধান্ত নেবে’, একসঙ্গে ইডলি-উপমা খেয়ে বললেন সিদ্দা-শিবকুমার, দ্বন্দ্ব রয়েই গেল?
    এই সময় | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • কর্নাটকের কুর্সির সমস্যা মিটল? বুক ঠুকে এখনই ‘হ্যাঁ’ বলা যাচ্ছে না। আগে থেকেই ঠিক করা কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার সঙ্গে হাসিমুখে জলখাবার খেলেন উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। তার পরে কিছুক্ষণ বৈঠকও করলেন। শেষে সাংবাদিক সম্মেলন। সেখানে দু’জনে একসঙ্গেই বলে দিলেন, ‘আমাদের কোনও সমস্যা নেই।’ কিন্তু তার পরেও অস্বস্তিটা কাটল না। কেন?

    সিদ্দারামাইয়া-শিবকুমার দ্বন্দ্বের বীজ পোঁতা হয়েছিল সেই ২০২৩ সালে। বিপুল ভোটে জিতে কর্নাটকে ক্ষমতায় ফেরে কংগ্রেস। কিন্তু কুর্সির দখল নিয়ে শুরু হয় দড়ি টানাটানি। প্রবীণ সিদ্দারামাইয়া, নাকি দলকে জয়ের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া শিবকুমার? কে বসবেন কুর্সিতে? সকলেই একবাক্যে মেনে নেন কর্নাটকের জয়ের পিছনে শিবকুমারের ভূমিকা ছিল অন্যতম। কিন্তু তার পরেও মুখ্যমন্ত্রী হন সিদ্দারামাইয়া। শোনা যায়, কংগ্রেস হাই কম্যান্ড নাকি মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি দু’জনের মধ্যে আড়াই বছর করে ভাগ করে দিয়েছিলেন।

    সেই আড়াই বছর পূর্ণ হতেই কুর্সির দাবি জানাতে শুরু করেন শিবকুমার। কিন্তু সিদ্দারামাইয়া পদ ছাড়তে নারাজ। এখান থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী করতে দিল্লিতে কংগ্রেস হাই কম্যান্ডের সঙ্গে দেখা করে আসেন বিধায়কদের একাংশ। শিবকুমারও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনও কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে দেখে হস্তক্ষেপ করেন হাই কম্যান্ডও। দুই গোষ্ঠীকে সরাসরি জানিয়ে দেওয়া হয়, ১ ডিসেম্বর থেকে লোকসভার অধিবেশন শুরু হচ্ছে। তার আগেই ঝামেলা মেটাতে হবে। এমনকি ব্রেকফাস্টের টেবিলে আলোচনা করে দ্বন্দ্ব মেটানোর নির্দেশও দেওয়া হয় বলে শোনা গিয়েছে।

    এর পরেই এ দিন সিদ্দারামাইয়ার বাড়িতে যান শিবকুমার। দু’জনে একসঙ্গে ব্রেকফাস্ট করেন। পাতে ছিল ইডলি, উপমা। খেতে খেতে হাসি হাসি মুখে কথা বলেন তাঁরা। একেবারে বৈঠকি মেজাজে। শেষে সাংবাদিক সম্মেলন করেন একসঙ্গে। কংগ্রেস শিবিরে কোনও ভাঙন নেই, তাঁরা একসঙ্গেই আছেন বার্তা দিয়ে দুই নেতা বললেন, ‘কোনও সমস্যা নেই। আমরা একসঙ্গে ছিলাম-আছি-থাকব।’

    গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের পুরো দায় বিজেপি আর সংবাদমাধ্যমের উপরে চাপিয়ে সিদ্দারামাইয়া বলেন, ‘২০২৮-এর বিধানসভা নির্বাচনের স্ট্র্যাটেজি নিয়ে আলোচনা হলো। আমাদের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব, মতভেদ নেই। এসব মিডিয়ার তৈরি। ভুয়ো অভিযোগ করা হচ্ছে। বিজেপির কোনও লাভ হবে না।’ শিবকুমারও সিদ্দারামাইয়ার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার বার্তা দেন। স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর কথাই আমার কথা। আমরা দলের একনিষ্ঠ সৈনিক। ২০২৮ সালেও আমরা জিতব।’ তার পরেই তিনি বলে দেন, ‘সমস্যা থাকলে হাই কম্যান্ড মেটাবে।’

    ফলে দ্বন্দ্ব পুরোপুরি মিটল সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। সিদ্দারামাইয়া এবং শিবকুমারের আবভাবে ঐক্যের ছাপ খুব একটা দেখা যায়নি বলেই দাবি করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, ২০২৩ সালে দ্বন্দ্বকে সাময়িক ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল, এ বারও অনেকটা সেই চেষ্টাই হলো। কিন্তু যে কোনও মুহূর্তে তা আবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়তে পারে।

  • Link to this news (এই সময়)