• প্রধানকে গুলিতে সিন্ডিকেট বিবাদই কি কারণ, ধন্দে পুলিশ
    এই সময় | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • এই সময়, বালি: ঘটনার পরে ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও, বেলুড়ের সাঁপুইপাড়া-বসুকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দেবব্রত মণ্ডলকে গুলি চালানোর ঘটনায় অধরা দুষ্কৃতী। এই গুলি করার পিছনে সিন্ডিকেটের বিবাদের কথাই জানা যাচ্ছে। স্থানীয় বিধায়ক কল্যাণ ঘোষের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বাবু মণ্ডল এলাকায় ইট, বালি, সিমেন্টের ব্যবসায় জড়িত ছিলেন বহুকাল। গত '২৩ সালে বাবু এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান হওয়ার পরে, তাঁর ইমারতি ব্যবসার সিন্ডিকেট ফুলেফেঁপে ওঠে। সেই নিয়ে দলেরই একাংশ ও তাঁদের মদতপুষ্ট সমাজবিরোধীদের টার্গেট হয়ে যান বাবু।

    প্রায় ১৩ বছর আগেও, ২০১২ সালে বাবুকে লক্ষ্য করে একবার গুলি - করা হয়। সে বার আততায়ী লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় বাবু বেঁচে যান। এইবার শরীরে দু'টি গুলি নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বছর পঞ্চান্নর বাবু মণ্ডল। বৃহস্পতিবার অনেক রাতে বাবুকে অস্ত্রোপচারের জন্য হাওড়ার বেসরকারি হাসপাতাল থেকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এসএসকেএম সূত্রে জানা গিয়েছে বাবু মণ্ডলের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। শুক্রবারই অস্ত্রোপচার করে শরীর থেকে গুলি বের করার চেষ্টা করছেন চিকিৎসকরা।

    এ দিন ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে একজনের বাইকের পিছনে বসে বাড়ি ফেরার পথে বাবুকে খুব কাছ থেকে গুলি করে এক দুষ্কৃতী। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাইকের পিছন থেকে রাস্তায় পড়ে গিয়েও, বাঁচার চেষ্টা করছেন পঞ্চায়েত প্রধান দেবব্রত মণ্ডল ওরফে বাবু। সেই অবস্থাতেই তিনি টেনে হিঁচড়ে আততায়ীর হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, তা-ও স্পষ্ট দেখা যায় ফুটেজে। এই অবস্থায় যে ব্যক্তির বাইকের পিছনে প্রধান বসেছিলেন, তাঁকেও প্রাণভয়ে তির বেগে বাইক ছুটিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

    আততায়ীকেও দেখা যায়, বাবুকে রাস্তায় ফেলে, তাঁর শরীরের দু'দিকে পা দিয়ে দাঁড়িয়ে ফের বন্দুক তাক করছে। তার পরেই বাবুকে ছেড়ে হেঁটে চলে যায় আততায়ী। রাত তখন সাড়ে ১০টা পেরিয়েছে। রাস্তায় কিছু লোকজন চলাচল করতেও দেখা যায়। কিন্তু প্রথমে কেউ প্রধানকে বাঁচাতে ছুটে আসেননি।

  • Link to this news (এই সময়)