• সাংবাদিক বৈঠকে ৫৬ বার ‘হাইকমান্ড’ নাম জপ! মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে উপমা-ইডলি খেয়ে ‘ঐক্যে’র বার্তা ডিকে-র
    বর্তমান | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • বেঙ্গালুরু, ২৯ নভেম্বর: কর্ণাটক কংগ্রেসের অন্দরের কুর্সির দ্বন্দ্বে আপাতত ইতি। শনিবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার বাসভনে গিয়ে একসঙ্গে উপমা, ইডলি এবং সম্বর খেয়ে ‘ঐক্যের’ বার্তা দিলেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। কিছুক্ষণ বৈঠকও করলেন। পরে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকেও সেই সুর শোনা গেল দুই নেতার বক্তব্যে। শিবকুমার বললেন, গত কয়েক মাস ধরে আমাদের মধ্যে ‘কিছু ভুল বোঝাবুঝি’ ছিল। কিন্তু এখন তা দূর হয়েছে। সামনেই দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে পঞ্চায়েত এবং পুরসভা ভোট। পরের বড় অগ্নিপরীক্ষা ২০২৮-এ। প্রতিটা পরীক্ষায় দলকে জেতানোর জন্য সবাই মিলে ঝাঁপিয়ে পড়বেন বলেও জায়েছেন। বাকিটা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে হাইমান্ডের হাতে। যে কারণে দু’জনের বক্তব্যে অসংখ্যবার উল্লেখ হয়েছে ‘হাইকমান্ড’ শব্দটি।কর্ণাটকে কংগ্রেসের কোন্দল তীব্র আকার নিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সিদ্ধারামাইয়াকে সরিয়ে ডি কে শিবকুমারকে বসানোর দাবি ‌উঠেছে দলের অন্দরেই। বিষয়টি আঁচ করে হস্তক্ষেপ করতে হয় দলের হাইকমান্ডকে। মূলত কংগ্রেসের দিল্লির নেতাদের বেঁধে দেওয়া ‘স্ক্রিপ্ট’ অনুযায়ী এদিন সকালে সিদ্ধারামাইয়ার বাসভবনে হাজির হয়েছিলেন শিবকুমার। সাংবাদিক বৈঠকে দু’নেতার বক্তব্যে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অন্তত ৫৬ বার এসেছে ‘হাইকমান্ড’ শব্দটি। যা দেখে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত, দিল্লির উপরে নিজেদের রাজনৈতিক ভাগ্য ছেড়ে দিয়ে আপাতত দলের মুখরক্ষায় রাজি হয়েছেন বিবাদমান এই দুই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা।২০২৩ সালে কর্ণাটকে কংগ্রেস ক্ষমতার আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়। হাইকমান্ডের স্নেহধন্য প্রবীণ নেতা সিদ্ধারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়। তবে কর্ণাটকের অধিকাংশ বিধায়কের সমর্থন ছিল দলের রাজ্য সভাপতি শিবকুমারের দিকে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রিত্বের পাঁচ বছরের মেয়াদ আধাআধি করে ভাগের রফায় শিবকুমারকে শান্ত করে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে সরকারিভাবে কংগ্রেস কখনওই সেকথা স্বীকার করেনি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে আড়াই বছর শেষ হওয়ার মুখেই আবার শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি তুলতে শুরু করেছেন অনুগামীরা।
  • Link to this news (বর্তমান)