• ছিলেন প্রদীপ, প্যারোলে বেরিয়ে হন আবদুল, ৩৬ বছর পর যোগীরাজ্যে গ্রেপ্তার পলাতক আসামি
    প্রতিদিন | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: খুন করেছিলেন দাদাকে। আদালত দোষী সাব্যস্ত করে। প্যারোলে বেরিয়ে আর ফেরেননি সংশোধনাগারে। বদলে ফেলেন নাম, পরিচয়, ধর্ম। পালটে ফেলেন চেহারারও। গাড়ি চালক হিসাবে কাজ করছিল। ৩৬ বছর পর ৭০ বছরের আসামিকে ফের গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

    সালটা ১৯৮৭। উত্তরপ্রদেশের বরেলির বাসিন্দা প্রদীপ সাক্সেনা খুন করে দাদাকে। দুই বছর পর ১৯৮৯ সালে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে উত্তরপ্রদেশের বরেলি আদালত। কয়েক মাস জেলে থাকার পর সেই বছরই প্যারোলে ছাড়া পায় সে। তারপর আর ফিরেনি। খোঁজ শুরু করে পুলিশ। কিন্তু কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে বরেলি থেকে পালিয়ে মুরাদাবাদে থাকতে শুরু করে। ধর্ম পরিবর্তন করে। নাম বদলে, প্রদীপ হয়ে যায় আবদুল। পরিবর্তন আনে চেহারায়। সেখানেই গাড়ির চালক হিসাবে কাজ করতে থাকেন।

    এদিকে চলতি বছরের ১৬ অক্টোবর এলাহাবাদ হাই কোর্টে প্রদীপের মামলাটি ফের ওঠে। আদালত নির্দেশ দেয় আসামিকে চার সপ্তাহের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। ৩৬ বছর আগে পালিয়ে যাওয়া আসামিকে ধরতে মাথায় হাত পড়ে পুলিশকর্তাদের। তৈরি করা হয় বিশেষ তদন্তকারী দল। বার করা হয় ধুলো পড়া ফাইল।

    শুরু হয় খোঁজ খবর। প্রদীপের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। তার ভাই সুরেশ বাবু জানান, দীর্ঘদিন আগে বাড়ি এসেছিল প্রদীপ। সে ধর্ম পরিবর্তন করেছে। থাকে মুরাদাবাদের কারুলা এলাকায়। এরপরই কারুলা এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার পর তদন্তকারীরা জানতে পারে প্রদীপ বলে কেউ থাকে না। তবে সাক্সেনা ড্রাইভার নামে একজনকে তারা চেনেন। তবে তার নাম আবদুল। ধর্মে মুসলিম। তারপর পুলিশ আবদুল ও ওরফে প্রদীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু সে প্রথমে মানতে চায়নি সেই প্রদীপ। নিজের স্বপক্ষে সমস্ত প্রমাণও দেখায়।

    কিন্তু বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আবদুলকে সন্দেহের চোখেই রেখেছিলেন তদন্তকারীরা। দীর্ঘ জেরার পর অবশেষে আবদুল স্বীকার করে সে ৩০ বছর আগে প্যারোল থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রদীপ। বরেলি পুলিশ জানিয়েছে, “২০০২ সালে সে ধর্ম পরিবর্তন করে। প্রদীপ থেকে হয়ে যায় আবদুল।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)