• মুমূর্ষু বাবাকে দেখতে চেয়ে মা-বোনের সঙ্গে লড়াই আদালতে, শুনানির মাঝেই মৃত্যু, কেঁদে ফেললেন বিচারপতি!
    প্রতিদিন | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • গোবিন্দ রায়: কথায় আছে, ‘বিচারের বাণী নীরবে, নিভৃতে কাঁদে।’ কিন্তু সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্ট এমনই বেদনাদায়ক এক ঘটনার সাক্ষী রইল, যাতে বিচারের বাণী নয়, কেঁদে ফেললেন খোদ বিচারপতি! কাঁদলেন বাদী-বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরাও। আইনি লড়াইয়ের মাঝে এক মৃত্যুসংবাদ সকলকে এমন আবেগপ্রবণ করে তুলল।

    ঘটনা ঠিক কী? জানা গিয়েছে, মৃত্যুশয্যায় থাকা বাবাকে নিয়ে মা-বোনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব। বাবাকে একটিবার দেখতে চেয়ে বারবার হাসপাতালে গেলেও মায়ের আপত্তিতে দেখা করতে পারেননি বড় মেয়ে। এনিয়ে তিনি আইনের দ্বারস্থ হন। কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেন মোম গঙ্গোপাধ্যায় চট্টোপাধ্যায় নামে ওই মহিলা। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে মামলাটি ওঠে। সবপক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি জানান যে বাবা সঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়ের অনুমতি সাপেক্ষে বড় মেয়ের দেখা করায় কোনও আইনি বাধা নেই। আপাতভাবে বিচারপতির এই নির্দেশে আশার আলো জ্বললেও অচিরেই তা নিভে যায়। বাবা যে রোগশয্যায়! কথা বলা, বোঝা, শোনার মতো অবস্থাতেই নেই। তিনি কীভাবে দেখা করার অনুমতি দেবেন? এই সুযোগে বাবার টিপসই দেওয়া একটি কাগজ দেখিয়ে মা জানান যে কোনওভাবে দেখা করতে চান না বড় মেয়ের সঙ্গে।

    এরপরই সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যান মোম গঙ্গোপাধ্যায় চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী তীর্থঙ্কর দে। তাঁর দাবি, বাবা একজন শিল্পপতি, শিক্ষিত মানুষ। তিনি কেন টিপসই দিয়ে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে অনিচ্ছার কথা জানাবেন? দরকার হলে তিনি সই করতেন। তাছাড়া একজন মৃত্যুশয্যায় থাকা মানুষ কীভাবে বলতে পারেন যে তিনি দেখা করতে চান না। পরিকল্পনা মাফিকই তাঁর বাবার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না মোম গঙ্গোপাধ্যায় চট্টোপাধ্যায়কে।

    বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে মামলা শুনানি ছিল। সেই শুনানি চলাকালীন খবর আসে যে বাবা সঞ্জিত চট্টোপাধ্যায় আর নেই, তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তা শুনে ভরা এজলাসেই ‘ও মাই গড’ বলে আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদে ফেলেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী! ভরা এজলাসে এ এক অন্য চিত্র। কাঁদতে দেখা গেল দুই পক্ষের আইনজীবীদেরও। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে মাও শেষপর্যন্ত স্বীকার করে নেন যে তিনি মেয়ে মোমকে বাবার সঙ্গে দেখা করতে দেননি। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)