ফারুক আলম, বিধাননগর: দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কুমিল্যা খুনে আগাম জামিন কার্যকর হল অভিযুক্ত রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্তের বর্মনের। ৫০ হাজার টাকার বন্ডে জামিন কার্যকর করল বিধাননগর মহকুমা আদালত। আদালত থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, “বিচারাধীন বিষয়ে কিছু বলব না। সংবাদমাধ্যমকে সম্মান করি। কিন্তু আপনারা বিচারকের ভূমিকা পালন করবেন না।”
২৬ নভেম্বর বারাসত আদালত ‘বিতর্কিত’ বিডিওর আগাম জামিন মঞ্জুর করে। তবে তা কার্যকর করার জন্য আজ, শনিবার বিধাননগর আদালতে সশরীরে হাজিরা দেন তিনি। সেখানে তাঁর জামিন কার্যকর করা হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, তাঁকে তদন্তে সাহায্য করার কথা বলা হয়েছে।
জামিন মঞ্জুরের পর পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহত স্বপনের পরিবার। তাঁদের দাবি, বিডিও প্রশান্তের বিরুদ্ধে তাঁরা অভিযোগ করেছিলেন। বিডিওর একের পর ঘনিষ্ঠরা গ্রেপ্তার হলেও, বিডিওকে গ্রেপ্তার করা হলই না, উলটে তিনি আগাম জামিন পেলেন কী করে সেই প্রশ্ন তুলছেন স্বপনের পরিবার। ব্যবসায়ী খুনে এখনও পর্যন্ত ৫জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
নিহত স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিলা। তিনি আদতে পশ্চিম মেদিনীপুরের নীলদা পোস্টঅফিস এলাকার দিলামাটিয়ার বাসিন্দা। দত্তাবাদে সোনার গয়নার দোকান রয়েছে তাঁর। পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, গত ২৮ অক্টোবর দোকান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। তারপরই নিউটাউনের যাত্রাগাছির বাগজোলা খালপাড় এলাকার ঝোপ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ছবি দেখে পরিবার দেহ শনাক্ত করে। পরিবারের দাবি, অপহরণ করে খুন করা হয়েছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে।
এই ঘটনায় নাম জড়ায় রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের। অভিযোগ, অপহরণ এবং খুনে পুরোপুরি যুক্ত বিডিও। পরিবারের দাবি, গত প্রায় ১০-১৫ বছর ধরে দত্তাবাদে দোকান ভাড়া করে ব্যবসা করেন স্বর্ণব্যবসায়ী। দিনকয়েক আগে নাকি ‘বিতর্কিত’ বিডিওর বাড়ি থেকে বেশ কিছু গয়নাগাটি চুরি যায়। ওই গয়নাগাটি স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দোকানে বিক্রি করা হয় বলেই দাবি করেন বিডিও। সে সংক্রান্ত খোঁজখবর নিতেই নাকি প্রথমবার আসেন বিডিও। তা নিয়ে সংঘাতের মাঝে গত ২৮ অক্টোবর, একটি নীলবাতি গাড়ি নিয়ে ফের দত্তাবাদের গয়নার দোকানের সামনে আসেন বিডিও। ওই গাড়ি থেকেই নাকি নামতে দেখা যায় তাঁকে। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন বলেই দাবি স্বর্ণব্যবসায়ীর পরিবারের। ওই গাড়িতে করে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া পর। পরদিন উদ্ধার হয় দেহ। এই ঘটনার পর থেকে অন্তরালে চলে যান বিডিও।