শীতের জার্নিতে ব্রেক লাগাবে বঙ্গোপসাগরে জন্ম নেওয়া নতুন ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াহ’? উঠছিল প্রশ্ন। কিন্তু স্বস্তির খবর শোনাল আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। পশ্চিমবঙ্গে আগামী সাত দিন বৃষ্টিপাতের কোনও সম্ভাবনা নেই। ডিসেম্বরের শুরুতেই কমতে পারে তাপমাত্রার পারদ। শনিবার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (রাত্রিকালীন তাপমাত্রা)-র বিশেষ পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। এর পরের তিন দিনে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ ডিসেম্বরে যখন পিকনিকের পরিকল্পনা করছেন অনেকে, সেই সময়ে কোনও ‘স্পয়েলার’ দিচ্ছে না আবহাওয়া।
রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য কোনও বদলের পূর্বাভাস নেই। আগামী ৫ ডিসেম্বর হাওড়া, অশোকনগর, শান্তিনিকেতন, দিঘার তাপমাত্রা নামতে পারে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। মেদিনীপুরের তাপমাত্রা নামতে পারে ১৩ ডিগ্রি, পুরুলিয়ার তাপমাত্রা নামতে পারে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ৬ ডিসেম্বর তাপমাত্রা আরও সামান্য কমতে পারে। ওই দিনে হাওড়া, মেদিনীপুর, অশোকনগর, শান্তিনিকেতন, দিঘা, শ্রীনিকেতনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামতে পারে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ডায়মন্ড হারবার, সুন্দরবনের তাপমাত্রা নামতে পারে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও থাকবে শীতের আমেজ। আগামী ৬ ডিসেম্বর দার্জিলিংয়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামতে পারে ৮ ডিগ্রিতে। এ ছাড়াও কালিম্পং ১০ ডিগ্রি, শিলিগুড়ি ১৪ ডিগ্রি, জলপাইগুড়ি ১৩ ডিগ্রি এবং কোচবিহার ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে। আপাতত উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টিপাতের কোনও সম্ভাবনা নেই।
আগামী তিন দিনে কলকাতার তাপমাত্রার বিশেষ পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। এর পরে ধীরে ধীরে কমবে তাপমাত্রার পারদ। শনিবার তিলোত্তমার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। এ দিন শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। এ দিন বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ সর্বাধিক ৯০ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৪২ শতাংশ।
দক্ষিণ পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াহ’ উত্তর- উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়ে চলেছে। তা উত্তর তামিলনাডু, পুদুদেরি এবং সংলগ্ন দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ লাগোয়া বঙ্গোপসাগরে পৌঁছতে পারে ৩০ নভেম্বর সকালে, প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে এমনটাই। এর কোনও প্রভাব বাংলার উপরে পড়ার সম্ভাবনা নেই বলেই জানাচ্ছে হাওয়া অফিস।