• নৈশ ভ্রমণে বেরিয়ে চোখের নিমেষে হারিয়ে যায় আদরের ‘পুকু’, খোঁজ মেলেনি ২০ দিন, শেষমেশ…
    এই সময় | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • বাড়ির সকলেই তাকে চোখে হারায়। এ ঘর থেকে ও ঘর তার অবাধ বিচরণ। নিয়ম মেনে খাওয়া-দাওয়া, বাইরে ঘুরতে বেড়ানো রয়েছে রুটিন। বাড়ির সকলে খেয়াল রাখেন। হঠাৎই একদিন নৈশ ভ্রমণে বেরিয়ে ঘটে বিপত্তি। সকলের আদরের ‘পুকু’ রাস্তার মাঝেই কোনও কারণে চোখের আড়াল হয়ে যায়। বাড়ির পথ চিনলেও ফিরে আসেনি বিড়ালটি। মন ভেঙে যায় সকলের। প্রায় ২০ দিন অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে খোঁজ মিলল ‘পুকু’র। ঘরের বিড়াল ফিরল ঘরে।

    হুগলির পাণ্ডুয়ার তেলিপাড়ার বাসিন্দা প্রদ্যুৎ ভট্টাচার্য ও তাঁর স্ত্রী রুপ্তী ভট্টাচার্যের দুই মেয়ে। গত বছর বড় মেয়ে রূপসা ভট্টাচার্য মাধ্যমিক পাশ করলে তাঁর দাদু তাকে একটি ‘পার্সিয়ান ক্যাট’ উপহার দেন। প্রায় পাঁচ মাস আগে ‘পুকু’ নতুন সদস্য হয়ে যোগ দেয় ভট্টাচার্য পরিবারে। ভট্টাচার্য পরিবারের সদস্যকে চিনতেন পাড়ার লোকজনও।

    রাত সাড়ে ন’টার পরে ‘পুকু’কে নিয়ে নৈশ ভ্রমণে বের হতেন রূপসা এবং তার মা। কখনও কখনও সঙ্গে থাকত ছোট বোনও। রূপ্তী ভট্টাচার্য জানান, দিন কুড়ি আগে রাস্তায় অচেনা কাউকে দেখে ভয় পেয়ে দ্রুত গতিতে দৌড়ে পালায় বিড়ালটি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পাওয়া যায়নি পুকুকে। মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে সকলের।

    গত বৃহস্পতিবার পাড়ার এক ছেলে ভট্টাচার্য পরিবারে খবর দেয়, কাছেই নিকটবর্তী এলাকায় একটি বাড়িতে দেখা গিয়েছে পুকুকে। সঙ্গে সঙ্গে সেই বাড়িতে ছুটে যান রুপ্তী ভট্টাচার্য। যদিও সেই বাড়ির মালিক জানান, উপযুক্ত প্রমাণ দিলে তবেই মিলবে বিড়াল। রুপ্তী জানান, বিড়ালটি গায়ের রং, গলার চেন সম্পর্কে। এমনকী, মোবাইলে তোলা বিড়ালটির ছবি, ভিডিয়ো দেখানো হয়। এর পরেও বিড়ালকে ছাড়তে রাজি হননি বাড়ির মালিক।

    শেষমেশ স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে সেই বাড়িতে ফের যান তিনি। অনেক বাকবিতণ্ডার পরে বিড়ালটিকে ফেরত দিতে রাজি হয় সেই পরিবার। ‘পুকু’ ফিরে আসার পরে খুশি সকলেই। রূপসা বলেন, ‘ও অনেকটাই দুর্বল হয়ে গিয়েছে। কম নড়াচড়া করছে। বেশির ভাগ সময়েই শুয়ে আছে।’

  • Link to this news (এই সময়)