• বহরমপুরে তৃণমূল নেতা খুনে গ্রেপ্তার এক, রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
    এই সময় | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • বহরমপুরে তৃণমূল কর্মী হায়াতুল্লা শেখের খুনের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, স্থানীয় এক গ্রামীণ চিকিৎসক ও কয়েক জন ওই রাতে হায়াতুল্লার সঙ্গে দেখা করেন। সেই সময়ে কোনও বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়। তা থেকেই হায়াতুল্লাকে ছুরির কোপ মারা হয় বলে অভিযোগ।

    বহরমপুর থানার রাজধরপাড়া পঞ্চায়েতের কুমড়দহ ঘাট এলাকা। শুক্রবার রাতে সেখানেই নির্মীয়মাণ বাড়ির সামনে বসেছিলেন হায়াতুল্লা শেখ (৪৫)। অভিযোগ, সেই সময়ে গ্রামের কয়েক জন তাঁর কাছে আসেন এবং কোনও বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে অশান্তি হয়। সেই সময়ে তাঁদের মধ্যে এক জন আচমকা হায়াতুল্লার বুকের বাঁ দিকে ছুরির কোপ মারে। রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে তাঁকে তড়িঘড়ি বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে ততক্ষণে হায়াতুল্লা শেষ।

    বহরমপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তৃণমূলের আইজুদ্দিন মণ্ডলের শ্যালক ছিলেন হায়াতুল্লা। হায়াতুল্লা তৃণমূলের রাজধরপাড়া অঞ্চল কমিটির সদস্য ছিলেন। রাজনৈতিক কারণে এই খুন নাকি ব্যক্তিগত কোনও ঝামেলা থেকেই এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপার কুমার সানি রাজ বলেন, ‘এই ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আচমকা উত্তেজনার বশে ওই ঘটনা ঘটেছে। এটা কোনও পরিকল্পিত বা রাজনৈতিক খুন নয় বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের জানতে পেরেছে। তদন্ত চলছে।’

    তবে এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনীতির রং লেগেছে। তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অপূর্ব সরকারের অভিযোগ, ভোটে যত এগিয়ে আসবে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি চেষ্টা করবে তৃণমূলকে দুর্বল করতে, ভয় দেখাতে। যেখানে এই ঘটনা ঘটেছে, সে এলাকায় কংগ্রেস শক্তিশালী। কংগ্রেসের দিকেই আঙুল অপূর্বর।

    পাল্টা বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, ‘নেত্রী বহরমপুর সফরে আসছেন। তার আগে নিজেদের দুই গোষ্ঠীর বিবাদ কংগ্রেসের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে তৃণমূল। মিথ্যা মামলায় কংগ্রেস কর্মীদের ফাঁসানো হলে কংগ্রেস চুপ করে বসে থাকবে না। পুলিশকে বলব, নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তার করার জন্য। কংগ্রেসের কেউ জড়িত থাকলে পুলিশ ধরবে, আমরা সে ব্যাপারে কিছু বলতে যাব না।’

    বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি নেতা লাল্টু দাসেরও দাবি, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে এই খুন। ভোট যত এগিয়ে আসবে, বোমাবাজি, গুলি, খুনোখুনি করবেই— এটাই তৃণমূল। বিজেপির দাবি, ভোটের আগে ভাগাভাগি নিয়ে ঝামেলা হবে। প্রার্থী হওয়া নিয়েও ওদের অশান্তি। পুলিশ তদন্ত করে সবটা সামনে আনুক।

    এ দিকে শনিবার মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পরে মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁর মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় নগড়াজল টিকটিকিপাড়ায় গ্রামের বাড়িতে। কান্নায় ভেঙে পড়েন বাড়ির লোকেরা। দোষীর যথাযথ শাস্তির দাবি তুলেছেন তাঁরা।

  • Link to this news (এই সময়)