আজকাল ওয়েবডেস্ক: আবারও শহর কলকাতায় হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকল শহরবাসী। প্রগতি ময়দান থানায় এক চাঞ্চল্যকর মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এক যুবতীর অভিযোগের ভিত্তিতে। অভিযোগকারিণী তাঁর রেকর্ড করা ও স্বাক্ষরিত বয়ানে জানিয়েছেন, গত ২৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাঁর পরিচিত এক যুবক হঠাৎই তাঁকে জোর করে একটি গাড়ির ভেতর বসিয়ে নেয়।
গাড়ির ভিতরে ওই যুবকের সঙ্গে আরও দুই বন্ধু উপস্থিত ছিল বলে অভিযোগ। অভিযোগ, মত্ত অবস্থায় তিনজন মিলে তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করে ও শ্লীলতাহানি করার চেষ্টাও করে। আচমকা এই হামলায় তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চোট লাগে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগকারিণীর দাবি, শুধু মারধরই নয়—গাড়ির মধ্যে তাঁর সামনেই মত্ত অবস্থায় অশালীন আচরণও করা হয়। অভিযুক্তরা তাঁকে অশালীনভাবে স্পর্শ করে এবং কুরুচিপূর্ণ, অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিতে থাকে। ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে বিস্মিত স্থানীয় বাসিন্দারাও।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রগতি ময়দান থানায় একটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। মূল অভিযুক্ত-সহ তিনজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
লালবাজার পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, অভিযোগকারিণীর বয়ান, মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং ঘটনার সম্ভাব্য ভিডিও ফুটেজ সহ সমস্ত প্রমাণ খুঁটিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত তিন যুবক এখনও অধরা বলেই জানা যাচ্ছে। পুলিশ জোর কদমে তদন্ত চালাচ্ছে। খুব শীঘ্রই ওই তিন অভিযুক্ত যুবক ধরা পড়বে বলে জানিয়েছে পুলিশ। যদিও এ বিষয়ে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম নগরপাল (অপরাধ দমন শাখা) আলাদা করে কিছু বলতে চাননি।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, শহর কলকাতায় এ ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় এক ব্যক্তির দাবি, পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানো উচিত। ঠিকমতো সেখানে পেট্রোলিং বা নজরদারি চালানো হয় না। যার ফলে এই অপরাধমূলক ঘটনা ক্রমাগত ঘটে চলেছে। কারণ ধারাবাহিকভাবে আনন্দপুর, কসবা এবং তারপর আবারও কাছাকাছি এলাকা প্রগতি ময়দান থানা এলাকায় এমন ভয়াবহ ঘটনা যা যথেষ্ট ভাবেই নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একইসঙ্গে আতঙ্ক প্রকাশ করছেন শহর কলকাতার মূলত ওই অঞ্চলের নাগরিকরা।