• সিইও দপ্তরে মৃত বিএলও-র পরিবার
    আজকাল | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাত জেগে এসআইআর–এর কাজ করতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে মুর্শিদাবাদের এক বিএলও-র। তাঁর মৃত্যুর পর আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনের চাকরির দাবিতে রাজ্যের CEO দপ্তরেই হাজির হন মুর্শিদাবাদের নিহত বিএলও জাকির হোসেনের পরিবারের সদস্যরা। 

    আজ শনিবার ডেপুটেশন দিতে গিয়ে মুর্শিদাবাদের এই পরিবার নির্বাচন কমিশনের কাছে চাকরি এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে। বিএল ও অধিকার রক্ষা কমিটিও এই দাবি জানিয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তরের অ্যাডিশনাল সিইও দিব্যেন্দু দাস (আইএএস)-এর সঙ্গে দেখা করে মৃত 'বিএলও'-এর পরিবার। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এবং রিপোর্ট আসলেই প্রকৃত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে চাকরির বিষয়ে কিছু জানাননি। রাজ্য সরকার সে বিষয়ে পদক্ষেপ করতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। মৃত্যুর তদন্ত করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তর।

    প্রসঙ্গত, মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মুর্শিদাবাদের খড়গ্রাম থানার অন্তর্গত দীঘা গ্রামে। মৃত ওই ব্যক্তির নাম জাকির হোসেন (৫৫)। তিনি খড়গ্রামের ঝিল্লি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ১৪ নম্বর বুথে বিএলও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি দীঘা গ্রামে একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। 

    সূত্রের খবর গত কয়েকদিন ধরেই জাকির হোসেন এনুমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশন করার জন্য রাত জেগে কাজ করছিলেন। সেই কাজ করার সময় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার আগেই বাড়িতে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ছাড়াও এক কন্যা এবং দুই পুত্র রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। 

    পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ খারাপ থাকায় এবং যে অ্যাপের মাধ্যমে বিএলও–দের ফর্ম ডিজিটাইজেশন করতে হচ্ছে তাতে সমস্যা দেখা দেওয়ার জন্য দিনের বেলায় তিনি এই কাজ করতে পারছিলেন না। ফলে গত কয়েকদিন ধরে প্রায় প্রতিদিনই রাত বারোটার পর থেকে তিনি ফর্ম ডিজিটাইজেশন কাজ করছিলেন। 

    পরিবারের লোকেদের অভিযোগ, নিজের সাধ্যমতো দ্রুত কাজ করার চেষ্টা করলেও নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে তাঁকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। প্রতিদিন রাত জেগে কাজ করতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন জাকির হোসেন। বৃহস্পতিবার রাতে এসআইআর–এর কাজ করার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। 

    মৃত বিএলও-র ভাই জোসেফ হোসেন জানিয়েছেন, ক্ষতিপূরণের বিষয়ে রাজ্যের সিইও দপ্তর আশ্বাস দিয়েছে। মৃত বিএলও স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। পরিবারের কেউ যাতে সেই চাকরি পান সেই ব্যাপারে সিইও দপ্তরে এসে আবেদন রাখা হয়েছিল। জোসেফ হোসেনের দাবি, যেহেতু রাজ্যের সিইও দপ্তরের চাকরি দেওয়ার এক্তিয়ার নেই, তাই এই বিষয়ে সরাসরি কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না বলে জানানো হয়।
  • Link to this news (আজকাল)