কেন্দ্রীয় পোর্টালে ওয়াকফ সম্পত্তির বিবরণ দেওয়া শুরু
দৈনিক স্টেটসম্যান | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
ওয়াকফ আইনের বিরোধিতা করেছিল তৃণমূল। পশ্চিমবঙ্গে ওয়াকফ আইন বলবৎ হবে না বলে একাধিকার জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর ওয়াকফ সম্পতি সব জেলাশাসককে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে ওয়াকফ সম্পত্তির বিবরণ কেন্দ্রীয় সরকারের ‘উমিদ’ পোর্টালে নথিভুক্ত করতে হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত সময়সীমা হল ৫ ডিসেম্বর। তার মধ্যে ওয়াকফ সম্পত্তির বিবরণ পোর্টালে নথিভুক্ত না করা হলে আইনত জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে খবর। তা এড়াতেই জেলাশাসকদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘ওয়ামসি’ নামে একটি পোর্টালে বাংলার ওয়াকফ সম্পত্তির ৮০ শতাংশ বিবরণ নথিভুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্য সরকারের এক কর্তা।
Advertisement
পশ্চিমবঙ্গে ৮,০৬৩টি ওয়াকফ এস্টেটের অধীনে ৮২,৬০০টি ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে। এখন রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআরের কাজ। সেই সময় ওয়াকফ নিয়ে নির্দেশিকা সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এত কম সময়ে ওয়াকফ সম্পত্তির নথিভুক্তিকরণ কী ভাবে সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মন্ত্রী তথা জমিয়তে-উলেমা-ই-হিন্দের পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন,‘আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাব, তিনি যাতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে এই বিবরণ জানানোর সময়সীমা বৃদ্ধি করার অনুরোধ করেন।’
তিনি আরও বলেন, কাজটা অত সহজ নয়। তাঁর কথায়, ‘পোর্টালে বিবরণ নথিভুক্ত করতে গেলে ৪৬টি জায়গায় খতিয়ান দিতে হবে। কোন বছর সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি ওয়াকফ হয়েছিল, চৌহদ্দি কতটা, রক্ষণাবেক্ষণ কে করেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে কি না, সম্পত্তির বাজারমূল্য কত ইত্যাদি নানা বিষয় জানাতে হবে।তা এত দ্রুত সম্ভব নয়।’ তবে নির্দেশিকা নিয়ে সিদ্দিকুল্লা সরকারের কোনও অন্যায় দেখছেন না। ওয়াকফ বোর্ডই যথাযথ ভাবে কাজটা করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরদাহ হাকিম জানিয়েছেন, ‘আমরা আজও ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে। সম্পত্তি ওয়েবসাইটে নথিবদ্ধ করতে অসুবিধা কী আছে? জমিটা সরকারের আওতাভুক্ত, তা চিহ্নিত হয়ে থাকবে। স্বচ্ছতা তো সবসময় ভাল।’ পাল্টা আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি জানান, ‘মুখ্যমন্ত্রীই বলেছিলেন, এ রাজ্যে ওয়াকফ আইন চালু হতে দেবেন না। তাঁর সরকারই সেই আইন মানতে নির্দেশিকা দিচ্ছে। সংখ্যালঘুদের এ বার বোঝার সময় এসেছে।’
ওয়াকফ সম্পত্তি বেদখলের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। ওয়াকফের জমি তৃণমূল জমি মাফিয়াদের হাতে তুলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। ওয়াকফ বোর্ডের কর্তারা সংশোধিক ওয়াকফ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য আইনশৃঙ্খলার মতো জমির বিষয়টি রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত। কেন্দ্রীয় সরকার কৌশলে আইন পাশ করিয়ে সেই মৌলিক জায়গায় আঘাত করেছে। এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টেও পেশ করা হয়েছিল। আদালত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি।
সংশোধিত ওয়াকফ আইন ঘিরে চলতি বছরের প্রথমে মুর্শিদাবাদ, মালদহের বিভিন্ন জায়গায় হিংসার আগুন ছড়িয়েছিল। যা সামাল দিতে হিমশিম খেয়েছিল রাজ্য প্রশাসন। তবে এবার সতর্ক পদক্ষেপ করতে চাইছে প্রশাসন। তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের চেয়ারম্যান তথা ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, ‘দলের তরফে আমরা গোটা বিষয়টির উপর নজর রাখছি। কোনও ভাবেই ঘুরপথে বিজেপি-কে ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করতে দেব না।’ ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে নির্দেশিকা জারি করা ছাড়া কোনও উপায় ছিল না বলে সরকারি আধিকারিক থেকে মন্ত্রীরা সকলেই মেনে নিয়েছেন। তবে জেলাগুলি এখন কতটা তৎপরতার সঙ্গে ওয়াকফ সম্পত্তি বিবরণ ‘উমিদ’ পোর্টালে তুলতে পারে সেটাই এখন দেখার।