• ডিজি নিয়োগে বঞ্চনা, ট্রাইবুনালে মামলা আইপিএস রাজেশ কুমারের
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • রাজ্যের ডিজি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন শীর্ষ আইপিএস আধিকারিক রাজেশ কুমার। অভিযোগ, সিনিয়রিটি ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে সম্ভাব্য তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই ন্যায়বিচারের দাবিতে তিনি কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সরাসরি কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইবুনালের আশ্রয় নিয়েছেন।

    রাজেশ কুমারের বক্তব্য, ডিজি পদ শূন্য হওয়ার সময় যেদিন রাজ্য সরকার সম্ভাব্য নামের তালিকা পাঠিয়েছিল, সেদিন তাঁর চাকরির মেয়াদ ছিল ছয় মাসের বেশি। নিয়ম অনুযায়ী এতটাই সময় বাকি থাকা আবশ্যক। শুধু তিনি নন, তাঁর থেকে আরও সিনিয়র দুই আধিকারিক— রাজীব কুমার ও রণবীর কুমার— তিনজনেরই মার্কশিট ছিল একই রকম। সে কারণেই তাঁর দাবি, ‘সিনিয়রিটি বিচার করলে প্রথম তিনজনের মধ্যেই আমার নাম থাকার কথা ছিল।’

    Advertisement

    কিন্তু ৩০ অক্টোবরের বৈঠকে কেন্দ্রীয় কমিশন জানায়, বৈঠকের দিনে তিনজন সিনিয়র আধিকারিকের চাকরির মেয়াদ ছয় মাসের কম হয়ে গিয়েছে। তাই তাঁরা আর যোগ্য নন। এই যুক্তিকেই ‘অযৌক্তিক’ বলে চিহ্নিত করেছেন রাজেশ কুমার। তাঁর প্রশ্ন, ‘তালিকা পাঠানোর দিনকে ভিত্তি না ধরে শুধু বৈঠকের দিনকে কেন ধরা হল? এতে তো যোগ্যদেরই বঞ্চনা করা হল।’

    প্রসঙ্গত, এ রাজ্যের পুলিশ দপ্তরে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে রাজেশ কুমারের। এই দীর্ঘ সময়কালে তিনি প্রশিক্ষণ পর্ব থেকে শুরু করে সহকারী পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ সুপার, উপ-মহাপরিদর্শক, মহাপরিদর্শক— একের পর এক পদে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি গ্রন্থাগার ও গণশিক্ষা দপ্তরে প্রধান সচিব হিসেবে কর্মরত। চাকরির মেয়াদ বাকি রয়েছে আর মাত্র কয়েক মাস। তাঁর কথায়, ‘সারা জীবন নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। আজ হঠাৎ করে আমাকে অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হচ্ছে। এটা অন্যায়।’

    রাজেশ কুমারের অভিযোগ, তাঁকে এবং আরও দুই সিনিয়র আধিকারিককে বাদ দেওয়ার পরে যে তালিকা তৈরি হয়েছে, তা প্রকৃত সিনিয়রিটির ভিত্তি মানেনি। তাঁর আক্ষেপ, ‘যে নিয়ম সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত, তা মানা হয়নি। যোগ্য আধিকারিকদের সরিয়ে পিছনের সারির অধিককারিকদের সামনে আনা হয়েছে।’ তিনি কমিশনের এই সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে শুধু ‘বেআইনি’ নয়, বরং ‘বৈষম্যমূলক’ বলেও দাবি করছেন।

    জানা গিয়েছে, পুলিশ প্রশাসনে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে মিলেছে একাধিক সরকারি সম্মান। রাষ্ট্রপতির পদক ও মুখ্যমন্ত্রীর পুলিশ পদক, যা তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের সাক্ষ্য বহন করে। এখন ট্রাইবুনালে তাঁর মামলার রায় রাজ্যের ডিজি নিয়োগ প্রক্রিয়ার ভবিষ্যতকে নতুন করে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন বহু প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞ।

    রাজেশ কুমারের দাবি, ‘আমি শুধু আমার প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিচার চাই। যোগ্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক, সেটাই কাম্য।’
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)