থাইল্যান্ড পালিয়েও রক্ষা নেই, অবশেষে গ্রেপ্তার একদা কুস্তিগির কুখ্যাত গ্যাংস্টার
প্রতিদিন | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পুলিশের হাত থেকে রেহাই পেতে জাল পাসপোর্ট বানিয়ে পালিয়েছিলেন থাইল্যান্ডে। তবে বিদেশ পালিয়েও রেহাই পেলেন না দিল্লির কুখ্যাত গ্যাংস্টার হরসিমরন ওরফে বাদল। কেন্দ্রীয় এজেন্সির সহায়তায় অভিযুক্তকে ব্যাংকক থেকে গ্রেপ্তার করল দিল্লি পুলিশ। শনিবার পুলিশের তরফে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। গত ২৬ নভেম্বর তাঁকে দিল্লিতে প্রত্যার্পণ করার পর গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
৩৮ বছর বয়সি হরসিমরন আদতে দিল্লির পূর্ব শালিমারবাগের বাসিন্দা। খুন, তোলাবাজি, হত্যা, হত্যার চেষ্টা-সহ ২৩টি গুরুতর অপরাধ মামলায় অভিযুক্ত এই যুবক। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশি তৎপরতা শুরু হতেই চলতি বছরের শুরুতে রাজেশ সিং নামে ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরি করে পালায় অভিযুক্ত। সেখানে গ্যাংস্টার গোল্ডি ধিলনের দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক মানের অপরাধচক্র তৈরির জাল বিছায় অভিযুক্ত। যদিও তাঁর সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়ে অবশেষে ব্যাংকক থেকে ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে এসে গ্রেপ্তার করল দিল্লি পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, হরসিমরন পুলিশের নজরে পড়ে ২০২৪ সালে স্পেশাল সেলের এক আধিকারিক খুনের ঘটনায় মহেন্দ্র সিং নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাঁকে জেরা করে জানা যায়, যে আগ্নেয়াস্ত্রে ওই আধিকারিককে খুন করা হয়েছিল সেগুলি সরবরাহ করে হরসিমরন। আরও জানা যায়, হরসিমরন জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ১৪টি বিচারাধীন মামলায় হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন। এরপরই অভিযুক্তের খোঁজে নামে পুলিশ। বিদেশে তাঁর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেন আধিকারিকরা। ভারত ছাড়ার পর আমেরিকা ও ইউরোপে যাওয়ার পরিকল্পনায় ব্যাংকক ও দুবাইতেও যান এই অভিযুক্ত।
দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টায় বিদেশ মন্ত্রক তার পাসপোর্ট বাতিল করে। ব্যাংকক কর্তৃপক্ষের সহায়তায়, হরসিমরনকে খুঁজে বের করে আটক করা হয় এবং ভারতে নির্বাসিত করা হয়। জানা যায়, একটা সময় কুস্তিগির ছিলেন এই অভিযুক্ত। দিল্লি এবং মহারাষ্ট্রের কোলাপুর থেকে প্রশিক্ষণও নেন তিনি। তবে খেলাধুলোয় মন বসেনি তাঁর। অপরাধ জগতে পা রেখে প্রথমে স্থানীয় গ্যাংগুলিতে যোগ দেন। এরপর উত্তর-পশ্চিম দিল্লি জুড়ে তোলাবাজি-সহ নানা অপরাধের নিজস্ব নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। ২০০৫ সাল থেকে, তার বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলে থাকাকালীনই গ্যাংস্টার গোল্ডি ধিলনের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তাঁর।