হেমন্ত মৈথিল, লখনউ: স্কুলের মাঠে স্যারের সঙ্গে খেলাধুলো? এ তো স্বাভাবিক ছবি! কিন্তু সেই গুরু-শিষ্যের জুটি যদি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে দেশকে সোনা আর রুপা এনে দেয়? হ্যাঁ, এমনই অসাধ্য সাধন করে দেখিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের হরিষ চন্দ্র এবং রমন কুমার। শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় ওয়ার্ল্ড পাওয়ার লিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫-এ তাঁদের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। যোগী আদিত্যনাথ সরকারের ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ নীতির এক বড় সাফল্য এই জয়।
আগ্ৰার ইতাউরা’র জয়প্রকাশ নারায়ণ সর্বোদয় বিদ্যালয়ের শরীরশিক্ষার শিক্ষক হলেন হরিষ চন্দ্র। তাঁর ছাত্র রমন কুমার একাদশ শ্রেণির ছাত্র। দু’জনেই বিশ্ব মঞ্চে ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছেন। হরিষ চন্দ্র ৭৭ কেজি বিভাগে জিতেছেন সোনা। তিনি হয়েছেন ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন’। অন্যদিকে, ছাত্র রমন কুমার ৫৬ কেজি বিভাগে জয় করেছেন রুপার পদক। এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ অংশ নিয়েছিল।
গুরু-শিষ্যের এই সাফল্য রাতারাতি আসেনি। যোগী সরকার রাজ্যে খেলাধুলোকে উৎসাহিত করে আসছে প্রথম থেকে। সেই উদ্যোগের ফলেই তাঁরা গুজরাটে জাতীয় পাওয়ার লিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ ফল করেন। সেখানে হরিষ চন্দ্র ৭৭ কেজি সিনিয়র বিভাগে সোনা জেতেন। ডেডলিফ্টে তিনি জাতীয় রেকর্ডও গড়েন। রমন কুমার সাব-জুনিয়র ৫৬ কেজি বিভাগে সোনা জিতেছিলেন।
এই জয় প্রমাণ করে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতেও উন্নতমানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অসীম অরুণ এই দুই ক্রীড়াবিদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই ঐতিহাসিক অর্জন রাজ্য ও দেশের জন্য গর্বের।
ইতাউরা সর্বোদয় বিদ্যালয় সমাজকল্যাণ দপ্তর দ্বারা পরিচালিত। এই দপ্তরের পক্ষ থেকে স্কুলে একটি অত্যাধুনিক পাওয়ার লিফটিং ল্যাব তৈরি করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। এর জন্য ১০ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। এই সুবিধা আরও অনেক ছাত্রকে আন্তর্জাতিক স্তরে সফল হতে সাহায্য করবে।