‘বোর্ড মিটিং পরে করবেন, SIR ক্যাম্পে আসুন’, আসানসোলের মেয়র পারিষদকে ধমক জেলা সভাপতির
প্রতিদিন | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
শেখর চন্দ্র, আসানসোল: “বোর্ড মিটিং পরে করবেন। ওসব বন্ধ রাখুন এখন। ইমিডিয়েট আসুন। সব ছেড়ে এখনই ছুটে আসুন এসআইআর ক্যাম্পে”। স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পারিষদকে ফোনে কড়া ভাষায় ধমক জেলা সভাপতির।
একদিকে চলছে আসানসোল পুরনিগমের বোর্ড মিটিং অন্যদিকে এসআইআর ক্যাম্পে পরিদর্শন করছেন তৃণমূল জেলা সভাপতি। মেয়র, ডেপুটি মেয়র, অন্য মেয়র পারিষদদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড বৈঠকে ব্যস্ত স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পারিষদ দিব্যেন্দু ভগত। ঠিক সেই সময় ঘটে এই ঘটনা। রানীগঞ্জের তৃণমূল কংগ্রেসের এসআইআর ক্যাম্পের কাজকর্ম দেখে অখুশি তৃণমূল জেলা সভাপতি, বিধায়ক নরেন চক্রবর্তী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘কাউন্সিলরের চাকরিটা মৌরসিপাট্টা নয়। ভোটযুদ্ধে সামিল না হলে পরে অসুবিধায় পড়বেন।’ এসআইআর ক্যাম্প পরিদর্শনে এসে বিধায়ক নরেন চক্রবর্তীর মেজাজ হারানো এবং দলীয় কার্যালয় থেকে ফোনের স্পিকার অন করে স্বাস্থ্য মেয়র পারিষদকে ধমকের ঘটনা ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এই ঘটনায় কটাক্ষ বিরোধীদের। প্রাক্তন মেয়র বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারির দাবি, “শহরের স্বাস্থ্য নিয়ে বোর্ড মিটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নরেন চক্রবর্তী ওসবের গুরুত্ব বোঝে না। ও কয়লা, বালি এসব বোঝে।” জিতেন্দ্র তেওয়ারি আরও বলেন, “ওই মেয়র পারিষদ আসলে মন্ত্রী মলয় ঘটক ঘনিষ্ট। নরেন-মলয় এখন গোষ্ঠীদ্বন্ধ চলছে। মলয়ের কিছু বলার ক্ষমতা নেই। তাই ঝি কে মেরে বৌকে শাস্তি দিতে চাইছে তৃণমূল জেলা সভাপতি।” মেয়র পারিষদ দিব্যেন্দু ভগতের দাবি, তাঁর সম্পর্কে জেলা সভাপতিকে ভুল বুঝিয়ে উত্তেজিত করা হয়েছে। অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত হলে দলেরই ক্ষতি।
উল্লেখ্য, এসআইআর নিয়ে দলের নেতা কর্মীদের বিশেষ ভাবে সচেষ্ট হতে বলেছেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভার্চুয়াল বৈঠকের পরই গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার তৃণমূল সভাপতি। কিন্তু, বিএলএ ২ দের সঙ্গে বৈঠক করতেই ধরা পড়েছে এসআইআর নিয়ে ফাঁকফোকর রয়েছে। দলের নেতা কর্মীদের কাছে ঠিকঠাক তথ্য নেই। তখনই মেজাজ হারান তৃণমূল জেলা সভাপতি।
সোমবার সেই পর্যালোচনার জন্য ভারচুয়াল বৈঠক করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর-এর শেষ ধাপের কাজ যাতে সময়ের মধ্যে নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য মন্ত্রী, বিধায়কদের একেবারে কড়া টাস্ক বেঁধে দেন তিনি। স্পষ্ট নির্দেশ, “একটা টিম তৈরি করে দিচ্ছি। ২৬ তারিখ থেকে ৩০ আর ১ থেকে ৪ – ব্যাগবস্তা বেঁধে সেই জেলায় চলে যান। ফিরবেন না।ওয়াররুম ভিজিট করবেন।” সব নিয়ে ৬ ডিসেম্বর দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রিপোর্ট দেবেন অভিষেক।