• ধেয়ে আসছে ‘দিতওয়াহ’, তিন রাজ্যে লাল সতর্কতা, কতটা প্রভাব পড়বে পশ্চিমবঙ্গে?
    এই সময় | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • শ্রীলঙ্কায় তাণ্ডব চালানোর পর এ বার ভারতীয় উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াহ’। আবহাওয়া দপ্তরের আপডেট অনুযায়ী, শনিবার লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও অন্ধ্রপ্রদেশে। রবিবার ভোর নাগাদ তিন রাজ্যের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াহ’ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা। এতে সরাসরি বাংলায় কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

    বৃহস্পতিবারই দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে পরিণত হয় ঘূর্ণিঝড়় দিতওয়াহ। IMD -এর দেওয়া তথ্য অনুসারে, ঝড়টি উপকূলরেখার খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে। শনিবার রাত থেকে রবিবার ভোরের মধ্যে ৫০ কিলোমিটার এবং সন্ধ্যার মধ্যে উপকূলরেখার ২৫ কিলোমিটারের কাছাকাছি চলে আসবে এই ঘূর্ণিঝড়। এর প্রভাবে ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে শুরু হয়ে গিয়েছে বৃষ্টি। শুক্রবার মৌসম ভবন জানিয়েছিল, ছ’ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়ের গতি ঘণ্টায় আট কিলোমিটার, যা একদিন পরেই কয়েকগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তা উত্তুরে হাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় অনেক সময়ে। কিন্তু আপাতত এই ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনাও নেই, জানাচ্ছেন আবহবিদরা।

    অন্যদিকে, সাইক্লোন দিতওয়াহ-এর তাণ্ডবে শ্রীলঙ্কায় কমপক্ষে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর। শ্রীলঙ্কার ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১২৩ জন মারা গিয়েছেন। ১৩০ জনেরও বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। যদিও মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। ৪৩,৯০০ জনেরও বেশি মানুষকে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে একাধিক জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এর ফলে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে উদ্ধারকাজ চালাতে সমস্যা হচ্ছে।

    ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত শ্রীলঙ্কায় উদ্ধারকাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে ভারত। শুরু হয়েছে অপারেশন সাগরবন্ধু। এনডিআরএফ-এর ৮০ জন জওয়ানকে নিয়ে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছেছে বায়ুসেনার IL-76। ওই টিমে রয়েছে চারটি স্নিফার ডগ। রয়েছে ত্রাণসামগ্রী ও উদ্ধারকাজের জন্য একাধিক আধুনিক সামগ্রী।

  • Link to this news (এই সময়)