রাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে ৩৫ লক্ষের নাম! কমিশন বলছে, থাকবেন শুধু ‘বৈধরাই’
আনন্দবাজার | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এ নাম বাদ পড়তে পারে এমন ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। নির্বাচন কমিশন বলছে, এসআইআরে এখনও পর্যন্ত ৩৫ লক্ষ ২৩ হাজার ৮০০ জন ভোটারের নাম বাদ পড়ার হিসাব মিলেছে। তাঁদের মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ১৮ লক্ষ ৭০ হাজার। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, খসড়া ভোটার তালিকায় এক জন ‘অবৈধ’ ভোটারেরও নাম থাকবে না। বাদ যাবে না ‘বৈধ’ ভোটারদের নাম।
কমিশনের কাছে যে তথ্য এসেছে, সেই সূত্রে জানা গিয়েছে, যে ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের মধ্যে ১৮ লক্ষ ৭০ হাজার জন মৃত। ৩ লক্ষ ৮০ হাজার জন ভোটারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। যাঁদের নাম বাদ পড়ার হিসাব মিলেছে, তাঁদের মধ্যে ১১ লক্ষ ৮২ হাজার জন স্থানান্তরিত হয়েছেন। ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে অনেকের বাড়িতে বার বার গেলেও তাঁদের হদিস পাননি বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। খসড়া তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়ার হিসাব মিলেছে, তাঁদের মধ্যে ৭৭ হাজার ৫৬০ জন ‘ভুয়ো’। অভিযোগ, একাধিক জায়গায় ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে তাঁদের। ওই ‘নকল’ ভোটারদের চিহ্নিত করে খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে তাঁদের নাম। রাজ্যের সিইও মনোজের বার্তা, ‘‘কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়বে না। কোনও অবৈধ ভোটারের নাম খসড়া তালিকায় থাকবে না।’’
কমিশন সূত্রে খবর, প্রতি দিনই তথ্য আসছে। আপাতত বিএলও-দের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব মিলেছে। তাঁরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফর্ম বিলি করতে গিয়ে এই তথ্য পেয়েছেন। সব এনুমারেশন ফর্ম জমা হওয়ার পরে চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে বাদ পড়ার সংখ্যা যে বেশি হতে পারে, তা এক প্রকার নিশ্চিত। আপাতত বাদ পড়ার তালিকায় মৃত ছাড়াও রয়েছেন একাধিক জায়গায় নাম রয়েছে, স্থানান্তরিত হয়েছেন এমন ভোটার। বাদ পড়ার তালিকায় রয়েছেন নিরুদ্দেশ হওয়া ভোটারও। রাজ্যে এখন পর্যন্ত ৮৮.৫০ শতাংশ ভোটারের তথ্য ডিজিটাইজ় হয়েছে।
গত ৪ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ৪ ডিসেম্বর ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন। কমিশনের তথ্য বলছে, এ রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটি ৬৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫২৯। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবরের তালিকা থেকে মোট কত নাম বাদ পড়ল তা জানা যাবে খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে। আগামী ৯ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন।