• আলু মজুতে বাড়তি ভাড়া মকুবের দাবি
    আনন্দবাজার | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • জেলার হিমঘরগুলিতে এখনও প্রায় ১১ শতাংশ আলু মজুত রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হিমঘরে আলু রাখার সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে রাজ্য। হিমঘরে মজুত আলু অতিরিক্ত এক মাস রাখার জন্য খরচও বাড়ানো হয়েছে। এই খরচ নিয়েই আপত্তি জানিয়েছেন আলু ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংরক্ষণকারীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, এতে চাষিদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে। সমস্যায় পড়বেন ব্যবসায়ীরাও।

    সাধারণ ভাবে মার্চ থেকে নভেম্বরের ৩০ তারিখ পর্যন্ত আলু হিমঘরে সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু, গত মরশুমে যথেষ্ট পরিমাণ উৎপাদনের পাশাপাশি ভিন্ রাজ্যে চাহিদা কম থাকার কারণে এখনও সংরক্ষিত আলুর একটা অংশ হিমঘরগুলিতে রয়ে গিয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়। বীরভূমও এর ব্যাতিক্রম নয়।

    কৃষি বিপণন দফতর জানিয়েছে, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বাজারে আলুর জোগান স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে এবং নতুন আলু আসা পর্যন্ত জোগান ও দাম ঠিক রাখার উদ্দেশ্যেই হিমঘরে সংরক্ষণের সময়সীমা আরও এক মাস বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু, সে জন্য দক্ষিণবঙ্গে কুইন্টাল প্রতি ২০.২২ টাকা ভাড়া দিতে হবে সংরক্ষণকারীদের। আলু ব্যবসায়ী সংগঠন এবং সংরক্ষণকারীরা চাইছেন, যাতে বাড়তি ভাড়া মুকুব করা হয়।

    বীরভূম জেলা আলুব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক দীনবন্ধু মণ্ডল বলেন, ‘‘পুরনো আলু হিমঘরে মজুত রয়েছে। বীজের জন্যও বেশ কিছু আলু রয়েছে হিমঘরে। সেই জন্যই সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছিল রাজ্যের কাছে। কিন্তু তার জন্য ভাড়া নিলে সমস্যা আছে।’’ দীনবন্ধুর দাবি, এমনিতেই এ বছর আলু রেখে লাভের মুখ দেখেননি চাষিদের অনেকই। বাজারে আলুর দামও কম। এই অবস্থায় বাড়তি এক মাস আলু রাখার খরচ মুকুবের জন্য কৃষি বিপণন দফতরের মাধ্যমে সরকারের কাছে আর্জি জানানো হবে। নতুবা আলুর দাম বাড়তে পারে।

    কৃষি বিপণন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এ পর্যন্ত এমন কোনও আর্জি আলু ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বলে জানা নেই। দফতরের এক আধিকারিক জানান, হিমঘরে আলু রাখার ভাড়ার বিষয়টি ঠিক করে একটি কমিটি। হিমঘরে রাখার খরচ রয়েছে। যদিও এই মুহূর্তে দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই বলেই মত কৃষি বিপণন দফতরের। ওই আধিকারিক বলেন, ‘‘বর্তমানে আলুর দর কিলো প্রতি ১৬-১৮ টাকায় ঘোরাফেরা করছে। আলু এখনও হিমঘরে মজুত। তা ছাড়া ডিসেম্বরের শেষ ভাগে নতুন আলু বাজারে চলে আসে। ফলে জোগান ঠিক থাকলে দাম বাড়বে না।’’

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বীরভূম জেলায় গত বছর আনুমানিক ২০ হাজার হেক্টর জমিতেআলুচাষ হয়েছে। ফলনও বেশ ভাল হয়েছিল। হিমঘরগুলিতেআলু রাখা হয়েছিল ১৮ লক্ষ ৯১ হাজার ৫১২ কুইন্টাল। চলতি মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত হিমঘর থেকে আলু বেরিয়েছে ১৬ লক্ষ ৮৪ হাজার ৩৩৭.২৩ কুইন্টাল। শতাংশের হিসাবে ৮৯। এখনও মজুত প্রায় ১১ শতাংশ। ফলে, আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে ওই মজুত শেষ হবে না বলেই জানাচ্ছেন কৃষি বিপণন দফতর। কারণ, বীরভূমে উৎপাদিত আলু জেলাতেই কম ব্যবহৃত হয়।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)