• ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ আজ
    আনন্দবাজার | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • সাম্প্রতিক অতীতে জেলায় কবে সিপিএমের এমন তৎপরতা চোখে পড়ছে, মনে করতে পারছেন না কোচবিহারবাসী। গ্রামে, রাজ্য সড়কে, শহরে সিপিএমের পতাকা চোখে পড়ছে। শ’য়ে শ’য়ে গাড়ি ভাড়া নেওয়া যেমন হয়েছে, তেমনই কর্মসূচির এক দিন আগেই দলের রাজ্য নেতারা জেলায় হাজির। এ রাজ্যের মসনদে পরিবর্তনের পরে, এমন দৃশ্য ‘বিরল’ বলে মানছেন দলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশও।

    শনিবার কোচবিহারের তুফানগঞ্জ শহরের দোলমেলা মাঠ থেকে শুরু হবে সিপিএমের ‘বাংলা বাঁচাওযাত্রা’। তার এক দিন আগেই পৌঁছেছেন দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।

    এ দিন গিয়ে দেখা গেল, দোলমেলা মাঠের একটি অংশ ছেড়ে মঞ্চ বাঁধার কাজ তদারক করছেন জনা পাঁচেক সিপিএম নেতা। সেখানে উপস্থিত সিপিএমের তুফানগঞ্জ শহর কমিটির সম্পাদক অসীম সাহা বললেন, ‘‘দশ হাজার মানুষের জমায়েতের লক্ষ্য রেখেই মাঠ তৈরি হচ্ছে। মনে করছি, ভিড় তা ছাপিয়ে যাবে।’’

    দল সূত্রে খবর, কর্মী-সমর্থকদের সভাস্থলে নিয়ে যাওয়ার জন্য আড়াইশোর উপরে গাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। দুপুর ১টা নাগাদ সভা শুরু হওয়ার কথা। তার ঘণ্টা দুয়েক পরে, ওই যাত্রা আলিপুরদুয়ারের ভাটিবাড়ির উদ্দেশে রওনা হবে। গোটা রাস্তায় জনসংযোগ করবেন নেতা-নেত্রীরা। কোচবিহারে তাঁদের লক্ষ্য, রাজবংশী ও সংখ্যালঘু ভোট। সে জন্য যাত্রার ঠিক আগে, পঞ্চানন বর্মা ও আব্বাসউদ্দিনকে নিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে। আলিপুরদুয়ার থেকে যাত্রা রবিবার পৌঁছবে জলপাইগুড়িতে।

    কোচবিহারের ন’টি বিধানসভার ছ’টি বিধানসভা বিজেপির, তিনটি তৃণমূলের হাতে। এ বারে লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার আসনে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। সিতাই উপনির্বাচনেও জিতেছে তৃণমূল। শক্তির নিরিখে সব বিধানসভাতেই সিপিএম তিন নম্বরে। তবে মীনাক্ষী বলেন, ‘‘বিজেপি এবং তৃণমূলের হাতে এ রাজ্যের মানুষ অত্যাচারিত হচ্ছেন। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এই যাত্রা।’’

    তৃণমূলের কোচবিহার জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মণের কটাক্ষ, ‘‘সিপিএমের এই যাত্রাকে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই।’’ বিজেপির কোচবিহার জেলা সহ-সভাপতি বিরাজ বসু বলেন, ‘‘মানুষ সিপিএমকে বিশ্বাস করেন না।’’ সিপিএমের কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায়ের দাবি, ‘‘মানুষ তৃণমূল ও বিজেপি— কাউকেই পছন্দ করছেন না। বাংলা বাঁচাও যাত্রায় তা প্রমাণ হবে।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)