• পর্যটন শিল্পে কালিম্পংকে তুলে ধরার দাবি
    আনন্দবাজার | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • পর্যটন মানচিত্রে কালিম্পং জেলাকে আরও ভাল ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করবে রাজ্য। শুক্রবার শিলিগুড়ির দীনবন্ধুমঞ্চে শিল্পোদ্যোগীদের নিয়ে সিনার্জিতে ওই আবেদন জানান কালিম্পং হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সমস্যা নিয়ে মুখোমুখি আলোচনায় সংগঠনের তরফে সিদ্ধান্ত সুদ জানান, কালিম্পংয়ে পর্যটনের বিষয়টি আরও বেশি করে তুলে ধরলে ভাল হয়। তাতে সায় দেন অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র,মাঝারি শিল্পোদ্যোগ দফতরের প্রধান সচিব রাজেশ পান্ডেও। এ দিন দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি জেলার শিল্পোদ্যোগীদের নিয়ে ওই কর্মসূচি হয়। ছিলেন, শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র গৌতম দেব ছাড়াও একাধিক নেতা।

    অনুষ্ঠানের প্রথম দফায় দফতরের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর চেষ্টায় উত্তরবঙ্গে শিল্পোদ্যোগের বিভিন্ন চেষ্টা হচ্ছে বাংলার অর্থনীতিকে মজবুত করা। শিল্পোদ্যোগীদের পাশে দাঁড়াতে এই সিনার্জি।’’ তাঁর সংযোজন, এখন অনেক ক্ষেত্রে ফায়ার লাইসেন্স, জল ব্যবহারে অনুমোদন লাগছে না। আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে সরকার থেকে। তাঁর দাবি, চা, পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের মতো অনেক শিল্প হচ্ছে উত্তরবঙ্গে। হোটেল, হোমস্টে হচ্ছে।

    নতুন হোটেল ব্যবসায় শিলিগুড়িতে আরও অন্তত ১৫টি গ্রুপ বিনিয়োগ করছে বলে এ দিন জানানো হয়। দফতরের তরফে জানানো হয়, তিন জেলায় ৩,১২৯ কোটি টাকার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রে আগামী ৪,৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগেরও সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়। জলপাইগুড়িতে সরকারি উদ্যোগে দু’টি শিল্প পার্ক গড়ে উঠছে। শিলিগুড়ির খড়িবাড়িতে সুপারি পাতা থেকে থালাবাটি তৈরির ক্লাস্টার গড়ার প্রকল্প হচ্ছে। ফাঁসিদেওয়ার লিউসিপাখরিতে সবুজ আতসবাজি সংরক্ষণের দোকান এবং গুদাম তৈরি হবে।

    এ দিন বিভিন্ন সমস্যার কথাও উঠে এসেছে। ব্রিজকিশোর প্রসাদ জানান, শিবমন্দির এলাকায় তিনি একটি হোটেল তৈরি করেছেন, অথচ রাস্তার জন্য ব্যবসা নষ্ট হচ্ছে। জাতীয় সড়কের ধারে বাগডোগরায় আর একটি হোটেল ইকো সেনসেটিভ জ়োনের মধ্যে বলে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। অথচ, বনাঞ্চল থেকে সেটি পাঁচ কিলোমিটারের বেশি দূরে। একই কারণে মাটিগাড়া উপনগরীতে নির্মাণ কাজের অনুমোদন মিলছে না বলে অপর নির্মাতা সংস্থার দাবি। দাগাপুরে একটি হোটেল তৈরির ক্ষেত্রে সমস্যার কথা জানান মনোজ আগরওয়াল। ফেডারেশন অব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, নর্থবেঙ্গলের (ফোসিন) সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস জানান, ফুলবাড়িতে ইএসআই হাসপাতালের পরিকাঠামো তৈরির পরেও তা চালু হয়নি। ফলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার কোম্পানির কর্মী, শ্রমিকেরা চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই সুবিধা নিতে পারছেন না। প্রয়োজন মতো বিদ্যুতের সংযোগ পেতে সমস্যার কথাও উঠেছে। সমস্যাগুলি মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন দফতরেরপ্রধান সচিব।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)