সোনাগাছি-সহ কলকাতায় চার যৌনপল্লিতে বিশেষ শিবির হবে খসড়া তালিকা প্রকাশ হওয়ার আগেই! দিনক্ষণ জানাল কমিশন
আনন্দবাজার | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর জন্য কলকাতার চার যৌনপল্লিতে বিশেষ শিবির করবে নির্বাচন কমিশন। খসড়া তালিকা প্রকাশের আগেই ওই শিবিরের আয়োজন করা হবে। আগামী ২ এবং ৩ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার এবং বুধবার) সোনাগাছি, খিদিরপুর, কালীঘাট এবং বউবাজার এলাকায় যৌনপল্লিতে এই বিশেষ শিবির আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
যৌনকর্মীদের সংগঠনের তরফে আগেই কমিশনকে চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ করা হয়েছিল বিশেষ শিবির আয়োজন করার জন্য। যৌনকর্মীদের বাস্তব সমস্যার কথা জানিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি লিখেছিল তিন সংগঠন ‘সোসাইটি অফ হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাকশন’, ‘ঊষা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ লিমিটেড’ এবং ‘আমরা পদাতিক’। চিঠিতে মূলত তিনটি সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল যৌনকর্মীদের তরফে।
সূত্রের খবর, ওই চিঠি পাওয়ার পরে প্রাথমিক ভাবে কমিশন স্থির করেছিল খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে এই শিবির আয়োজন করবে। আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এনুমারেশন ফর্ম বিলি এবং জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলবে। তার পরে ৯ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশ হবে। তিন সংগঠনকে কমিশন মৌখিক ভাবে জানিয়েছিল, ৯ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর যৌনকর্মীদের যা সমস্যা আছে তার সমাধান করতে বিশেষ শিবির করা হবে।
তবে সংগঠনগুলি চাইছিল, যাতে আরও আগে এই শিবিরের আয়োজন করা হয়। এ অবস্থায় শনিবার তিন সংগঠন ফের যোগাযোগ করে কমিশনের সঙ্গে। পুনরায় চিঠি জমা দেয় তারা। আগামী ৪ ডিসেম্বরের মধ্যেই যাতে এই শিবিরগুলির আয়োজন করা হয়, সেই আর্জি জানানো হয় কমিশনকে। সংগঠনগুলির দাবি মেনে এ বার খসড়া তালিকা প্রকাশের আগেই বিশেষ শিবিরের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিল কমিশন। আগামী ২ এবং ৩ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার এবং বুধবার) এই শিবিরগুলি আয়োজিত হবে।
যৌনকর্মীদের সন্তানদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘আমরা পদাতিক’-এর সংগঠক মহাশ্বেতা মুখোপাধ্যায় বলেন, “আজ আমরা তিনটি সংগঠনের পক্ষ থেকে কমিশনে গিয়েছিলাম। কমিশনের আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, ২ এবং ৩ তারিখে এই বিশেষ শিবিরগুলি হবে। গত কয়েক দিন ধরেই আমরা এ নিয়ে বিভিন্ন মহল্লায় প্রচার চালাচ্ছি। আগামী দু’দিন সেই প্রচারে আরও জোর দেওয়া হবে।”
প্রাথমিক চিঠিতে যৌনকর্মীদের মূলত তিনটি সমস্যার কথা চিঠিতে জানিয়েছিল ওই তিন সংগঠন। এক, গ্রামাঞ্চল বা ভিন্রাজ্য থেকে যৌনকর্মীরা আসেন সোনাগাছিতে। সামাজিক নানা কারণে তাঁদের অধিকাংশের সঙ্গেই পরিবারের যোগাযোগ থাকে না। ফলে ২০০২ সালের নথি তাঁদের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব। দুই, বহু যৌনকর্মী পরিস্থিতির চাপে পরিবার এবং বাড়ি ছেড়ে এই পেশায় আসেন। তাঁরা অনেকেই নথি নিয়ে বাড়ি ছাড়েন না। ফলে তাঁদের অনেকের কাছেই কমিশন নির্ধারিত নথি নেই। তিন, এমন অনেক যৌনকর্মী রয়েছেন, যাঁরা পরিবারের কাছে তাঁদের পেশা গোপন করে রেখেছেন সামাজিক বেড়াজালের কারণে। এই অংশের পক্ষেও পরিবারের নথি জোগাড় করা সম্ভব নয়।