নয়াদিল্লি: দিল্লি বিস্ফোরণের পর থেকেই চর্চায় ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়। এনআইএ-এর তদন্তে সামনে আসছে একের পর এক নতুন তথ্য। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ নম্বর ঘর থেকে উদ্ধার হল নগদ ১৮ লক্ষ টাকা। প্লাস্টিক মুড়িয়ে টাকা রাখা ছিল আমলারিতে। সন্ত্রাসের পাশাপাশি আর্থিক দুর্নীতিতেও আগেই নাম জড়িয়েছে আল-ফালাহর। সুতরাং এখানকার কোনও ঘর থেকে নগদ টাকা পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু যে ২২ নম্বর ঘর থেকে এই বিপুল অঙ্কের টাকা মিলেছে সেখানেই একসময় থাকত মেডিকেল মডিউলের অন্যতম সদস্য ডাঃ শাহিন শাহিদ। কাজেই বিষয়টাকে সাধারণ ভাবছেন না তদন্তকারীরা।
সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর আল-ফালাহ। দিল্লি বিস্ফোরণের পর ফরিদাবাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমনই পরিচয় হয়েছে। এনআইএ-র তদন্তে জানা গিয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছিল জঙ্গিদের ‘মেডিকেল মডিউল’। আর সেই মডিউলের অন্যতম মাথা শাহিন। বৃহস্পতিবার তাকে সঙ্গে নিয়ে আল-ফালাহতে যান তদন্তকারীরা। ঘুরে দেখেন বিভিন্ন জায়গা। দীর্ঘক্ষণ জেরাও করা হয় তাকে। নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ২২ নম্বর ঘরেও। কীভাবে এত টাকা ওই ঘরে এল সেই খোঁজ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। প্রশ্ন উঠছে, ওই টাকা কি সন্ত্রাসের কাজেই ব্যবহারের ছক কষেছিল শাহিনরা? মডিউলের জন্য শাহিন টাকা জোগাড় করে আগেই তদন্তকারীদের জানিয়েছিল অপর অভিযুক্ত ডাঃ মুজাম্মিল। এদিকে, শাহিনের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কেও একাধিক তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল দিল্লি বিস্ফোরণের মুজ্জামিলের সঙ্গে ২০২৩ সালে বিয়ে হয়েছিল শাহিনের। তবে এটি শাহিনের প্রথম বিয়ে নয়। ২০০৩ সালে জাফর হায়াত নামে এক চিকিৎসকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তার। রয়েছে দুই সন্তানও। তবে ২০১২ সালে এই সম্পর্ক ভেঙে দেয় শাহিন নিজেই। সেইসময় কানপুরের এক মেডিকেল কলেজে পড়াত সে। বিয়ে ভাঙার পর সেই চাকরিও ছেড়ে দেয়।
তদন্তকারীদের দাবি, পরের কয়েকটা বছর জম্মু-কাশ্মীর সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছে শাহিন। এরইমাঝে তার পরিচয় হয় মুজাম্মিলের সঙ্গে। ২০২৩ সালে ইসলামিক রীতি মেনে দুজনে বিয়ে করে। তদন্তকারীদের অনুমান, এর পর থেকেই সন্ত্রাসমূলক কাজকর্মে জড়িয়ে পরে শাহিন। সময়ের সঙ্গে নিজেদের নেটওয়ার্ক মজবুত করে এই ‘টেরর কাপল’।
এদিকে, শনিবার শাহিন-মুজাম্মিল সহ দিল্লি বিস্ফোরণে অভিযুক্ত চারজনকে ১০ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির আদালত।দিল্লিকাণ্ডে পুলিশের জালে মৌলানানয়াদিল্লি: রাজধানী বিস্ফোরণের তদন্তে উঠে আসে উত্তরাখণ্ডের হলদোয়ানি অঞ্চলের নাম। শুক্রবার রাতে এখানকার এক মসজিদে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। এদের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় ধর্মীয় নেতা মৌলানা মহম্মদ আসিম কাসমি। অভিযোগ, দিল্লি বিস্ফোরণের নেপথ্যে থাকা অপারেটিভের সঙ্গে যোগ ছিল তার। উত্তরখাণ্ডের এই মুসলিম প্রভাবিত এলাকায় অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে অভিযান চালাতে হয় পুলিশকে। কাসমিকে আটক করে শনিবার ভোরেই দিল্লি রওনা দেন তদন্তকারীরা। তবে এই অভিযানের পর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে।
দিল্লি বিস্ফোরণ মামলায় এখনও পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার