নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দিল্লি উড়ে এসে হাইকমান্ডের সামনে বসে বিরোধ মেটানোর প্রয়োজন পড়ল না। শনিবারের ব্রেকফাস্ট মিটিং করেই কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রী দাবি করলেন দল ও সরকারে কোনও সমস্যা নেই। কিছু সংশয় ছিল। কিন্তু সেসব কেটে গিয়েছে। সেই সংশয় এমন কোনও বড় ইশ্যু নয় যে, দল অথবা সরকারের উপর সামান্যতম প্রভাব পড়বে। নভেম্বর মাস আসার সঙ্গে সঙ্গে কর্ণাটকে কংগ্রেস সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়েছিল জল্পনা। অর্থাৎ কর্ণাটকে কংগ্রেস সরকারের আড়াই বছর পর এবার কি তাহলে মুখ্যমন্ত্রী বদল হতে চলেছে? এত সহজে কি সিদ্ধারামাইয়া পদ ছেড়ে দেবেন? যদি তিনি সরে যেতে রাজি না হন, তাহলে কি উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার ও তাঁর অনুগামী বিধায়ক ও মন্ত্রীরা বিদ্রোহ করবেন? সেই সুযোগ কি বিজেপি নিতে সফল হবে? এরকম হাজারো প্রশ্নকে কেন্দ্র করে প্রবল আলোড়ন চলেছে দেশের রাজনৈতিক মহলে। যদিও কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সম্পূর্ণ নীরব। শোনা যাচ্ছিল, তাঁদের দুজনকে দিল্লি ডেকে মীমাংসাসূত্র বের করার একটা চেষ্টা করবে হাইকমান্ড। এই টানাপোড়েনকে আরও প্ররোচিত করতে প্রত্যাশিতভাবে আসরে নেমে পড়ে বিজেপি। বিগত ১৫ দিন ধরে নিয়ম করে বিজেপি প্রচার শুরু করে যে, কংগ্রেস সরকারের আজ নয় কাল পতন হবে। দলে বিদ্রোহ হবে, শিবকুমার পদত্যাগ করবেন ইত্যাদি। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে বিজেপি গোপনে অপাররেশন লোটাসের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। অর্থাৎ, ঘুরপথে ফের ক্ষমতাসীন হওয়া।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার দরকারই হল না। হঠাৎ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশেই কর্ণাটক সরকারের দুই পাওয়ার সেন্টার, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া ও উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার শনিবার সকালে মিলিত হন সিদ্ধারামাইয়ার বাসভবনে। ব্রেকফাস্ট মিটিং। সেই মিটিং শেষ হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে কী কথা হল। সিদ্ধারামাইয়া হালকা চালে বলেন, খাওয়ার সময় আমি কথা বলি না। অতএব কোনও গুরুতর কথা হয়নি। যদিও পরে তিনি বলেন, যে গুজব ও জল্পনা ভাসছিল সেগুলি স্পষ্ট করতেই আমরা কথা বলেছি। আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম এবং আছি। হাইকমান্ড যে ফরমুলা দেবে সেটাই আমি মান্য করব। একই কথা বলেছেন, শিবকুমারও। তিনি বলেছেন, আমাদের আপাতত লক্ষ্য পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং ২০২৮ সালের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসকে জয়ী করা। শিবকুমার বলেছেন, বিজেপি অযথা এত হইচই করছে। ওদের কোনও চান্স নেই। প্রসঙ্গত ২০২৩ সালে কর্ণাটকে কংগ্রেস জয়ী হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে প্রবল টানাপোড়েন চলছিল। সেই সময় সিদ্ধারামাইয়া ওই পদে আরোহণ করলেও রাজনৈতিক জল্পনা ছিল যে, সম্ভবত হাইকমান্ডা ফরমুলা দিয়েছে আড়াই বছর পর মুখ্যমন্ত্রী বদল হবে। আর সেই কারণেই নভেম্বর মাসে যেই আড়াই বছর সমাপ্ত হয়েছে, তখনই কর্ণাটকের রাজনৈতিক ক্ষমতাকেন্দ্রে প্রবল চাঞ্চল্য শুরু হয়, এবার কী হবে? রাজনৈতিক সূত্রের খবর, উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার আগামীদিনে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসবেন। কিন্তু সেই ক্ষমতা হস্তান্তর হবে
মসৃণ এবং স্বাভাবিকভাবে। যাতে কোনও তিক্ততা এবং মতান্তর না থাকে।