• বৈঠকের পূর্ণাঙ্গ ট্রান্সক্রিপ্ট প্রকাশ করুক কমিশন, চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের, ‘বাড়াবাড়ি হচ্ছে’, পর্যবেক্ষক পাঠানো নিয়েও সরব দল
    বর্তমান | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি:  এসআইআর ইশ্যুতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তৃণমূলের সংঘাত আরও তীব্র হল। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, বাংলায় এসআইআর নিয়ে তাদের পাঁচ প্রশ্নের একটিরও জবাব দেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। যদিও কমিশনের দাবি, তৃণমূলের যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। শনিবার এব্যাপারে সাংবাদিক সম্মেলন করে কমিশনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল তৃণমূল। দলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘ক্ষমতা থাকলে আমাদের ১০ সাংসদের সঙ্গে শুক্রবারের বৈঠকের বিস্তারিত ট্রান্সক্রিপ্ট প্রকাশ করুক কমিশন। তাহলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে তৃণমূল মিথ্যে বলছে, নাকি জ্ঞানেশ কুমার।’

    দলের তিন সাংসদ সাজদা আহমেদ, প্রতিমা মণ্ডল এবং সাকেত গোখলেকে পাশে নিয়ে ডেরেক বলেন,‘বাংলায় বিএলও মৃত্যুর পুরো দায় কমিশনের। জ্ঞানেশ কুমারের হাতে রক্ত লেগে আছে। যেভাবে বিএলওদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে, ত্রুটিপূর্ণ অ্যাপে ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাল করতে বলা হচ্ছে, তা অমানবিক। তাই কমিশনের কাজ করতে গিয়ে বাংলার নিরীহ নাগরিক আত্মহত্যা করছেন। তাই আরও সময় নিয়ে এসআইআরের কথা বলছি আমরা। সেই মতো পাঁচ প্রশ্নের জবাব চেয়েছিলাম। কিন্তু কমিশন জবাব দেয়নি। মিডিয়ার মাধ্যমে মিথ্যাচার করছে। সাহস থাকলে প্রেস বিবৃতি দিক কমিশন। প্রকাশ করুক পুরো বৈঠকের ট্রান্সক্রিপ্ট।

     রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই কমিশনের আচমকা পর্যবেক্ষক পাঠানোরও সমালোচনায় সরব দল। এব্যাপারে ডেরেক বলেন, ‘এবার বাড়াবাড়ি করছে কমিশন। আমরা কারও চাকর নই। কমিশন শুনে রাখুক, আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক। আমাদের চাপ দিয়ে চুপ করানো যাবে না। বাংলার মানুষের স্বার্থে তৃণমূল সরব হবেই।’

    কয়েকজন বিএলও’র সুইসাইড নোটও এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে পড়া হয়। এসআইআরকে নোটবন্দির সঙ্গে তুলনা করে তৃণমূলের মন্তব্য, এটা ভোটবন্দি। জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা মুখ্যমন্ত্রীর দু’টি চিঠির একটিরও জবাব এখনও পর্যন্ত দেয়নি কমিশন। ডেরেক বলেন, ‘এত ঔদ্ধত্য? আন্তর্জাতিক মানের এক নেত্রীরও চিঠির জবাব দেবে না কমিশন?’ 

    শুক্রবার বৈঠকের পর কমিশন জানায়, এসআইআর প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে বলা হয়েছে তৃণমূলকে। কোনও বিএলওকে যেন কেউ  হুমকি না দেয় বা প্রভাবিত না করে। খসড়া তালিকায় নাম বাদ গেলে পরে আবেদন করা যাবে। তাই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। যদিও তৃণমূলের পালটা প্রশ্ন, নাম তোলাই যেখানে সমস্যা, সেখানে পরেও যে হবে- তার গ্যারান্টি কী? আসলে বাংলাকে টার্গেট করে বাঙালি ভোটারদের নাম কাটতেই বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলছে কমিশন। যদিও কমিশন যতই প্রশ্নের জবাব এড়াক, এসআইআর ইশ্যুতে তৃণমূল শেষ দেখে ছাড়বে বলেও জানিয়ে দিয়েছে। এর পরেই সামনে এসেছে আগস্ট মাসের একটি নোটিফিকেশন। কমিশনের সেই নোটিশে বিএলওদের টাকা বাড়ানোর উল্লেখ রয়েছে। প্রাপ্য অর্থ আটকে রেখে বিএলওদের কেন হয়রানি করা হচ্ছে, কবে টাকা ছাড়া হবে, তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে প্রশ্ন করেছে কমিশন। পালটা সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর তোপ, চার মাসের পুরোনো নোটিশ দেখিয়ে কমিশনকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করছে বিজেপি। যা থেকে স্পষ্ট, এসআইআর শুধু ব্যর্থ নয়, তা ধসে পড়েছে।  ২০২১ সালের থেকে আরও বড় ব্যবধানে বিজেপি হারবে বলেও জানান অভিষেক। 
  • Link to this news (বর্তমান)