চেন্নাই: শনিবার ভোররাত আড়াইটে নাগাদ শ্রীলঙ্কা উপকূলে আছড়ে পড়ে সাইক্লোন দিতওয়া। ইতিমধ্যেই সরকারি ভাবে ১২৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। নিখোঁজ আরও ১৩০। কাজেই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দিতওয়ার প্রভাবে শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি গোটা তামিলনাড়ুজুড়ে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এছাড়া পুদুচেরি, কেরল এবং তেলেঙ্গানাতেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইছে। ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ুর নানা জায়গায় জল জমে গিয়েছে। এদিন আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কায় আছড়ে পড়ার পর ধীরে ধীরে সেটি তামিলনাড়ু উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ২৯ ও ৩০ নভেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে দক্ষিণ উপকূল এবং কাবেরী ডেল্টা জেলাগুলিতে প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
শুক্রবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর বিবৃতি দিয়ে জানায়, সাইক্লোন দিতওয়া শ্রীলঙ্কায় আছড়ে পড়ার পর দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর উপকূলের দিকে ঘণ্টায় ৩ কিলোমিটার বেগে অগ্রসর হচ্ছে। সেই সময় ওই সাইক্লোন করাইকাল থেকে ৩০০ কিলোমিটার, দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্ব পুদুচেরি থেকে ৪১০ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্ব চেন্নাই থেকে ৫১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছেন। গোটা রাজ্যে কার্যত জরুরি অবস্থা জারি করেছে প্রশাসন। বিশেষ করে দক্ষিণ প্রান্ত ও ডেল্টা জেলাগুলির জন্য লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ৩০ নভেম্বর সকাল থেকে তামিলনাড়ু সহ পুদুচেরি এবং সংলগ্ন অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে চেন্নাই, চেঙ্গালপেট, কাঞ্চিপুরম, তিরুভাল্লুর ও রানিপেটে বৃষ্টির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে।
এদিন গোটা তামিলনাড়ুতেই স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয়। উপকূলীয় জেলার মধ্যে ভিল্লুপুরম, কুড্ডালোর, তিরুভান্নামালাই, নাগপট্টিনাম, মায়িলাদুথুরাই, রামনাথপুরম, তিরুভারুর, থাঞ্জাভুর এবং পুদুকোত্তাইয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি হয়েছে। অন্যদিকে, বেঙ্গালুরুতেও সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির জেরে বেশ কয়েকটি উড়ান পরিষেবা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।