নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এসআইআর থেকে সেন্সাস। সব পর্ব মিটে গেলে মোদি সরকার জাতীয় নাগরিকত্ব কার্ড ইশ্যু করার কথা ভাবতে পারে। এমনই আলোচনা চলছে সরকারের অন্দরে। সেজন্য সেন্সাসের পর এনআরসি হতে পারে দেশজুড়ে। অর্থাৎ এসআইআর। সেন্সাস। এনআরসি। তারপর নাগরিকত্ব কার্ড। যদিও সবথেকে বড় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার (এনপিআর) নিয়ে। কারণ সেন্সাসের সঙ্গে এনপিআর হওয়ার কথা। ২০১১ সালের সেন্সাসের কাজ যখন চলছিল সেই সময় সেন্সাসের পাশাপাশি এনপিআর তৈরি হয়েছিল। ২০১৮ সালে যখন ২০২১ সালের সেন্সাসের ঘোষণা হয়েছিল, সেই সময়ও সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে ছিল এনপিআরের কথা। কিন্ত এনপিআর নিয়ে
প্রবল আপত্তি করে বিরোধী দলগুলি। আর তারপরই কোভিডকাল চলে আসে। সেন্সাস ক্রমেই পিছিয়ে যায়। ২০২৫ সালের জুন মাসে যখন সেন্সাসের বিজ্ঞপ্তি ও সূচি প্রকাশিত হয়, তখন সব সময় সারণি দেওয়া হলেও এনপিআর প্রসঙ্গে কিছু বলা হয়নি। আর তাই প্রশ্ন উঠছে এনপিআর কি তাহলে সেন্সাসের পরে হবে? কিন্তু সরকারি সূত্রের খবর, মোদি সরকার যেহেতু মনে করে ভারতের কোনও নির্দিষ্ট নাগরিকত্ব কার্ড নেই, তাই ন্যাশনাল সিটিজেনস কার্ড সরকার ইশ্যু করবে। ২০২৯ সালের ভোটের আগেই এই নাগরিকত্ব কার্ড বৈধ নাগরিকদের দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। সম্প্রতি লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এরকম আভাসও দিয়েছে। মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী বান্দি সঞ্জয় কুমার বলেছিলেন,১৯৫৫ সালের সিটিজেনশিপ আইনের ২০০৪ সালের সংশোধনীতে কেন্দ্রীয় সরকারকে অধিকার দেওয়া হয়েছে যে, নাগরিকদের নথিভুক্তকরণ করতেই হবে এবং নাগরিকত্ব কার্ডও ইশ্যু করতে হবে। এই আইন ছাড়াও সিটিজেনশিপ রুলস (রেজিস্ট্রেশন অফ সিটিজেনস অ্যান্ড ইশ্যু অফ ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড) ২০০৩-এর বিধিতে বলা হয়েছে, এনআরসির মধ্যে যে নাগরিকদের নাম নথিভুক্ত থাকবে, তাদের নাগরিকত্ব কার্ড দিতে হবে। সুতরাং এই আইন ও রুলসকে সামনে রেখেই সরকার অগ্রসর হচ্ছে। এসআইআরের পর সেন্সাস সমাপ্ত হবে। ২০২৭ সালের মার্চ মাসে সেন্সাসের চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে। এরপরই এসআইআর ও সেন্সাসের তথ্যকে ম্যাচিং করিয়েই এনআরসি হতে পারে। অর্থাৎ তিন ধাপে যাচাই করে নাগরিকত্ব বাছাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে প্রদান করা হবে নাগরিকত্ব কার্ড। কিন্তু সেক্ষেত্রে এনপিআর আগে আবশ্যক। আপাতত ২০১৫ সালের আপডেট করা এনপিআর আছে। যেখানে ১১৯ কোটি রয়েছে নথিভুক্ত নাগরিক।