• অ্যাপ বাইক চালকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩৩১ কোটি! বেটিং চক্রের খোঁজ পেল ইডি, খরচ হয়েছিল গুজরাতের তরুণ নেতার বিয়েতেও
    বর্তমান | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • নয়াদিল্লি: পেশায় অ্যাপ বাইক চালক। দিল্লির আশপাশের এলাকাই তাঁর কর্মক্ষেত্র। বসবাস রাজধানী শহরের প্রান্তে বস্তির দু’কামরা ঘরে। অথচ তাঁর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই জমা পড়েছে ৩৩১ কোটি টাকা! আর তা মাত্র আট মাসের মধ্যে। সেই টাকার কিছুটা আবার গুজরাতের এক তরুণ রাজনৈতিক নেতার ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-য়েও খরচ হয়েছে!  আর্থিক তছরুপের মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ওই বাইক চালকের খোঁজ পায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, একটি বেআইনি বেটিং সংস্থার সূত্রেই ওই বিপুল টাকা অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল। বাইক চালকের দাবি, অ্যাকাউন্টে এই বিপুল টাকার ব্যাপারে বিন্দুবিসর্গও জানা ছিল না তাঁর। এই দাবি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।  

    ওই বেআইনি বেটিং সংস্থার বিরুদ্ধে আগেই তদন্ত শুরু করেছে ইডি। ইতিমধ্যেই বলিউডের অভিনেতা এবং একাধিক প্রাক্তন ক্রিকেটারের নাম জড়িয়েছে। কিন্তু এই চক্রের জাল আরও গভীরে ছড়িয়ে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। গুজরাতের ওই নেতাকেও জেরার জন্য ডাকা হতে পারে।

    ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, অ্যাপ বাইক চালকের অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের খোঁজ পেয়ে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায় ইডি। কিন্তু বাড়ির হাল দেখে আধিকারিকরাই হতভম্ব হয়ে যায়। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ধাপে ধাপে ৩৩১ কোটি টাকা জমা পড়ে। লেনদেন খতিয়ে দেখা যায়, গুজরাতের ওই নেতার বিয়ের জন্য ১ কোটি টাকার বেশি তোলা হয়। সেই টাকায় রাজস্থানের উদয়পুরের এক বিলাসবহুল হোটেলে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। জেরায় বাইক চালক জানান, তিনি ওই নেতা বা তাঁর পরিবারের কাউকেই চেনেন না।

    ইডি আধিকারিকদের অনুমান, ওই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টটিকে ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বাইক চালকের ভুয়ো নথি ব্যবহার করে ওই অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়। তারপরই সেখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা জমা রাখা হত। তারপর সেগুলি আবার কয়েকটি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে দেওয়া হত। সম্প্রতি ওই বেটিং সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য প্রাক্তন ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ান ও সুরেশ রায়নার কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিল ইডি।
  • Link to this news (বর্তমান)