কোচবিহার উত্তর বিধানসভার ১৩টি অঞ্চল নিয়ে শাসকদলের দু’দিন ব্যাপী বৈঠক শুরু
বর্তমান | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহার উত্তর বিধানসভার ১৩টি অঞ্চল নিয়ে দলের জেলা কার্যালয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ম্যারাথন বৈঠক শুরু হয়েছে। এই বিধানসভায় দলীয় দ্বন্দ্ব মেটাতে ও বিজেপিকে রুখতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। শনি ও রবিবার এই বিধানসভার যথাক্রমে ছয় ও সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েতের নেতা-কর্মীকে নিয়ে লাগাতার বৈঠক করেন দলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক।
কোচবিহার উত্তর বিধানসভাটি নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপি উভয় যুযুধান দলই এবার যথেষ্ট চাপে রয়েছে। জেলার অন্যান্য ব্লকের সভাপতিদের নাম ঘোষণা হলেও কোচবিহার-২ ব্লকে তৃণমূল তাদের ব্লক সভাপতির নাম ঘোষণা করতে পারছিল না। সম্প্রতি ব্লক সভাপতি হিসেবে সজল সরকারের নাম ঘোষণা করে দল। কিন্তু এরপর দিনকয়েক কাটতে না কাটতেই স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় জড়িত সন্দেহে সজলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার গাড়ির চালকও গ্রেফতার হয়েছে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাপে পড়ে তৃণমূল। অন্যদিকে এই বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায়ের ছেল কিছুদিন আগে চকচকায় এক তৃণমূল নেতাকে গুলি করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল। যা নিয়ে বিজেপিও চাপে রয়েছে।
তৃণমূল ব্লক সভাপতি হিসেবে সজল সরকারের নাম ঘোষণা করার পর তিনি নিজের মতো করে অঞ্চল কমিটি ঘোষণা করেছিলেন। এদিকে দলের পক্ষ থেকেও অঞ্চল কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছিল। যা নিয়ে সেখানে তীব্র দ্বন্দ্ব ছিল। এর মধ্যেই সজল গ্রেফতার হওয়ায় হাওয়া বদলে যায়। নতুন করে শুভঙ্কর দে’কে ব্লক সভাপতি করা হয়েছে। এবার নির্বাচনের আগে সজলের ঘোষিত কমিটি ও দলের ঘোষিত কমিটির মধ্যে একটা সমন্বয় তৈরি করতেই এই বৈঠক বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচনের কাজ করার জন্য ভারসাম্য বজায় রাখতে বেশকিছু অঞ্চল কোর কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। শনিবার জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে দিনভর ঢাংঢিংগুড়ি, চকচকা, খাপাইডাঙ্গা, টাকাগাছ, রাজারহাট, মধুপুর, পুণ্ডিবাড়ি ও খাগড়াবাড়ি অঞ্চলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে।
আজ, রবিবার পাতলাখাওয়া, বড় রাংরস, গোপালপুর, মরিচবাড়ি খোলটা, আমবাড়ি ও বাণেশ্বর অঞ্চলের বৈঠক হবে। শনিবার দিনভর দলীয় কার্যালয়ে ওই সব অঞ্চলের নেতৃত্বদের ভিড় ছিল। দলের পক্ষ থেকে ঐক্য বজায় রেখে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
জেলা তৃণমূল সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক বলেন, কোচবিহার-২ ব্লকের ১৩টি অঞ্চল নিয়ে দুই দিন ধরে পরপর বৈঠক করা হচ্ছে। ওই ব্লকে বিজেপিকে পরাজিত করতে যা যা করার, করা হচ্ছে।