নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: মুখে বলে দিলেই ভাঁড়ারে টাকা আসবে না। বর্তমানে যা পরিস্থিতি, জলপাইগুড়ি পুরসভার হাল ফেরানো মোটেই সহজ নয়। চেয়ারম্যানের সঙ্গে কাজিয়ার মাঝেই খোঁচা ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ মাহাতর। তিনি বলেন, একথা অস্বীকার করার নয় যে, জলপাইগুড়ি পুরসভার আর্থিক অবস্থা একেবারেই ভালো জায়গায় নেই। আয়ের চেয়ে খরচ অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। এর থেকে বেরিয়ে আসতে গেলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগতে হবে। এবং তার জন্য পুরসভার সকলের সহযোগিতা দরকার। না হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
জলপাইগুড়ি পুরসভায় প্রতিমাসে গড়ে ৫০ লক্ষেরও বেশি ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে বলে সূত্রের খবর। কীভাবে ওই ঘাটতি মিটতে পারে, তার উপায় নির্ধারণ করতে গিয়ে বকেয়া ট্যাক্স আদায়, সম্পত্তিকর পুনর্মূল্যায়ণ এবং ফ্ল্যাট-বাড়ির মিউটেশনে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, শহরে প্রায় সাড়ে ন’শো ফ্ল্যাটের মিউটেশন বাকি। সেগুলি যাতে দ্রুত সেরে ফেলা হয়, সেব্যাপারে আমরা বলেছি।
ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ মাহাতর অবশ্য প্রশ্ন, জলপাইগুড়ি পুরসভার সব ওয়ার্ডে কি আদৌও ট্যাক্স কালেক্টর রয়েছেন? তাহলে টার্গেট পূরণ হবে কীভাবে? পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার দেবদুলাল পাত্র বলেন, যেসব ট্যাক্স কালেক্টর বসে গিয়েছেন, তাঁদের ডাকা হয়েছে। তাঁরা কাজ করতে পারবেন কি না জেনে প্রয়োজনে নতুন ট্যাক্স কালেক্টর নিয়োগ করা হবে।
প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সম্পত্তিকর পুনর্মূল্যায়ণ হওয়ার কথা। কিন্তু জলপাইগুড়ি পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরে তা হয়নি। এখন ওই কাজ চললেও কবে তা শেষ হবে ঠিক নেই। তারপর নতুন কর পরিকাঠামো ঠিক করে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরকে পাঠাতে হবে। সেখান থেকে সবুজ সংকেত এলে তবেই তা কার্যকর করতে পারবে পুরসভা। ফলে এই পথে চটজলদি যে আয় বৃদ্ধি সম্ভব নয় তা মানছেন পুরসভার অন্দরের অনেকে।
এরআগে পুরসভার আর্থিক হাল ফেরাতে পাপিয়া পাল চেয়ারপার্সন থাকাকালীন ঠিক হয়, শহরের দিনবাজারে মার্কেট কমপ্লেক্সের যেসব ঘর পড়ে রয়েছে, সেগুলি বিক্রি কিংবা লিজ দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে পুরসভার যেসব বাজার রয়েছে, সেগুলি থেকে যাতে আয় বাড়ানো যায়, তার চেষ্টা করা হবে। এনিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপের বক্তব্য, দিনবাজারে মার্কেট কমপ্লেক্সের ঘর বিক্রি বা লিজ দিয়ে পুরসভার আয় হতে পারে। কিন্তু এজন্য প্রথমে কমিটি করতে হবে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেবে। ওই রিপোর্ট বোর্ড অব কাউন্সিলারের মিটিংয়ে পেশ করতে হবে। তারপর কী দরে ওই মার্কেট কমপ্লেক্সের ঘর বিক্রি হবে, সেটা ঠিক করে বোর্ডে পাশ করাতে হবে। ফলে মুখে বললাম আর হয়ে গেল, এমনটা মোটেই নয়। তাঁর সংযোজন, পুরসভার বাজারগুলির হাল ভালো নয়। ফলে সংস্কার না করতে পারলে ওইসব বাজারে দোকানের ভাড়া বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না। আবার বাজার সংস্কারের জন্য অর্থের অভাব। ফলে সবদিক থেকেই সংকটে পুরসভা।