মানিকচক ব্লকে ভিটে গঙ্গাগর্ভে, বাংলার বাড়ির প্রথম কিস্তির টাকা পেলেও জমি নিয়ে চিন্তায় ৬৯টি পরিবার
বর্তমান | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
সংবাদদাতা, মানিকচক: গঙ্গা গিলেছে জমি, বাড়ি। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা। কিন্তু বাড়ি করবেন কোথায়? জমিই তো নেই। তাই টাকা থাকতেও মহা চিন্তায় ভূতনির ভিটেমাটি হারানো বেশকিছু পরিবার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও কবে মিলবে, সেই অপেক্ষায় তাঁরা।
মানিকচক ব্লকের ভূতনির কেশরপুর, কালুটোনটোলা ও বসন্তটোলা। এবছরের গঙ্গা ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছেন ওই এলাকার অনেকে। তার মধ্যে কালুটোনটোলা ও বসন্তটোলা গ্রাম নিশ্চিহ্ন। দুই গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে গত তিনমাস বসবাস করছেন ভূতনির রিং বাঁধে। বাঁধে আসার সময় প্রশাসন গৃহহীন পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করেছিল। তাদের মধ্যে থেকে প্রায় ৬৯টি পরিবারকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা দিয়েছে মালদহ জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে পাঁচটি পরিবার বসন্তটোলা ও ৬৪টি কালুটোনটোলার। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মানিকচক ব্লক প্রশাসনিক ভবনে জেলা আধিকারিকদের উপস্থিতিতে বৈঠক করে বাংলার বাড়ির টাকা এবং পাট্টার জমি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাংলার বাড়ির টাকা পেলেও পাট্টার জমি না মেলায় চিন্তায় ৬৯টি পরিবার। গঙ্গা ভাঙনে তাদের জমি, বাড়ি গঙ্গাগর্ভে। অন্য জমিও নেই। তাহলে এই টাকায় বাড়ি করবেন কোথায়? প্রশাসন দ্রুত জমি না দিলে টাকা খরচ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ওই পরিবারগুলি। এবিষয়ে ধনঞ্জয়, রঘুবীর, পুতুল মাহাতোরা বলেন, আমরা প্রশাসনকে বাংলার বাড়ির টাকা দেওয়ার আগে পাট্টার জমির আবেদন জানিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসন আমাদের টাকাটা রাখতে বলে এবং দ্রুত জমি দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু দুই সপ্তাহ পার হলেও জমি না থাকায় বাড়ির কাজ শুরু করতে পারছি না। অভাবের সংসারে ওই টাকা খরচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাছাড়া প্রথম কিস্তি দিয়ে বাড়ির কাজ না করতে পারলে পরের ধাপের জন্য টাকা আটকে যাবে বলে আশঙ্কা ওই পরিবারগুলির। সেজন্য দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মালদহ জেলা পরিষদের সদস্য তথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জয়শ্রী মণ্ডল বলেন, ৬৯ জনকে বাংলার বাড়ির প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হলেও আরও প্রায় ২৪২ জনকে দেওয়া হবে। জমি সংক্রান্ত বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। নতুন রিং বাঁধ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে জমি দেখা হয়েছে। আশাকরি, জেলা প্রশাসন দ্রুত জমি হস্তান্তর করবে। গঙ্গার ভাঙনে জমি হারিয়ে রিং বাঁধে বসবাস করছেন দুর্গতরা। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা পেলেও কোথায় মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করবেন তা নিয়ে চিন্তায়।-নিজস্ব চিত্র