‘চিকিৎসাকেই অগ্রাধিকার দিতে চাই’, বিধায়কের মন্তব্যে জল্পনা
বর্তমান | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: ‘চিকিৎসাকেই অগ্রাধিকার দিতে চাই।’ জলপাইগুড়ি সদরের তৃণমূল বিধায়ক ডাঃ প্রদীপকুমার বর্মার এমন মন্তব্যে জল্পনা ছড়াল। তাহলে কি সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে চাইছেন তিনি? মুচকি হেসে বিধায়কের জবাব, রাজনীতিতে না থাকলে কি মানুষের সেবা করা যায় না?
বেশ কিছুদিন ধরে তৃণমূলের মিটিং মিছিলে সেভাবে দেখা মিলছে না জলপাইগুড়ি সদরের চিকিৎসক-বিধায়কের। প্রশাসনিক স্তরেও অনেক বৈঠকে দেখা যায় না তাঁকে। তাঁর জনসংযোগ নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেও প্রশ্ন রয়েছে। বেশিরভাগ সময় তিনি নিজের নার্সিংহোমে ‘ব্যস্ত’ থাকেন বলে অভিযোগ। এনিয়ে দলের নেতৃত্ব যে খুশি নয়, তা তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপের বক্তব্যেও স্পষ্ট। এদিন মহুয়া বলেন, এটা ঠিক যে, রাজগঞ্জ, মালবাজার ও ধূপগুড়ির বিধায়করা যেভাবে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকেন, জলপাইগুড়ি সদরের বিধায়ককে সেভাবে পাওয়া যায় না। বেশিরভাগ সময় তিনি প্রফেশনাল কাজে ব্যস্ত থাকেন।
এই পরিস্থিতিতে জলপাইগুড়ি সদরের বিধায়ক ‘নিখোঁজ’ বলে তোপ দেগেছে বিজেপি। এনিয়ে শহরে তারা পোস্টার মারারও হুমকি দিয়েছে। বিজেপির জলপাইগুড়ি এক নম্বর মণ্ডলের সভাপতি মনোজ শা বলেন, জলপাইগুড়ি সদরের বিধায়ক কোথায়? জনগণ এনিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বিধায়ক ‘নিখোঁজ’ বলে আমরা শীঘ্রই পোস্টার সাঁটব শহরে। যদিও বিজেপির মন্তব্য ঘিরে বিধায়ক প্রদীপকুমার বর্মার জবাব, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো কি আমার কাজ? যেটা আমার কাজ, সেটা মন দিয়েই করছি আমি। জলপাইগুড়ি জেলার মধ্যে সদর বিধানসভায় সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে।
শনিবার জলপাইগুড়ি পিডি উইমেন্স কলেজে বৈঠকে যোগ দেন সদরের বিধায়ক। বৈঠক শেষে কলেজ থেকে বেরনোর সময় তাঁকে জানতে চাওয়া হয়, সামনেই ভোট। রাজনীতি না চিকিৎসা কোনটিকে প্রাধান্য দিতে চান তিনি? যার উত্তরে বিধায়ক সরাসরি জানিয়ে দেন, চিকিৎসক হিসেবে রোগীদের পরিষেবা দেওয়াকেই অগ্রাধিকার দিতে চাই। সেক্ষেত্রে সক্রিয় রাজনীতিতে তিনি আদৌও আর থাকতে চান কিনা তা নিয়ে তাঁর মন্তব্য, আমার ৭১ বছর বয়স। শারীরিক নানা সমস্যাও রয়েছে। দেখা যাক, আগামী দিনে কী হয়।
গত বিধানসভায় জলপাইগুড়ি সদর আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ডাঃ প্রদীপকুমার বর্মা ৯৪১ ভোটে জয়ী হন। পুরসভার ২৫টি ওয়ার্ড ছাড়াও সদর ১ নম্বর ব্লকের ৮টি পঞ্চায়েত এবং সদর ২ নম্বর ব্লকের অধীন অরবিন্দ ও বাহাদুর পঞ্চায়েত দু’টি জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভার অন্তর্গত। অভিযোগ, শহর-গ্রামে তৃণমূলের কর্মসূচিতে সেভাবে দেখা যায় না বিধায়ককে। দলের নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে তাঁর জনসংযোগেও ঘাটতি রয়েছে। যদিও ওই অভিযোগ উড়িয়ে বিধায়কের দাবি, দলের নির্দেশে এখন এসআইআরের কাজ দেখছি।