ভুয়ো এনজিও পরিচয়ে বধূকে অপহরণের চেষ্টা, ধৃত ৫ মহিলা
বর্তমান | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ভুয়ো এনজিও পরিচয় দিয়ে বধূকে অপহরণের চেষ্টা! করা হয় তোলাবাজিও। ঘটনায় পাঁচ মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুরশুড়া থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম কণিকা প্রামাণিক, সুচিত্রা বিশ্বাস, মনিকা মণ্ডল, অনিমা বিশ্বাস ও ব্রজন্তি বিশ্বাস। তাদের বাড়ি নদীয়ার হাঁসখালি থানার কৈখালি গ্রামে। প্রত্যেকের বয়স ৩৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। নদীয়ার জেলাশাসকের স্বীকৃতি রয়েছে দাবি করে তারা পুরশুড়ার এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সন্দেহ হওয়ায় বধূর স্বামী পুরশুড়া থানায় ঘটনার কথা জানান। পুলিশ খবর পেয়ে পুরশুড়ার গুলিবাগা এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে পুলিশ আধিকারিকরা অভিযুক্ত মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেন। জিজ্ঞাসাবাদে এনজিও সংক্রান্ত তারা কোনও নথি পুলিশকে দেখাতে পারেনি। ফলে পুলিশ স্বত্বঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে মহিলাদের গ্রেফতার করে।
শনিবার অভিযুক্তদের নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘আলোর দিশা’ নামে একটি এনজিও-র নাম করে চক্রের পাঁচ মহিলা পুরশুড়ায় এসে এক বধূকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। স্বামী বাধা দিলে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়। বধূর স্বামীর কাছ থেকে মিটমাট করার নামে দু’হাজার টাকা নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত সেখানে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ধৃতদের কাছে কোনও বৈধ নথি নেই। তারা ডিএম-এর নাম ভাড়িয়েও বধূকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। অভিযুক্তদের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলার এক বাসিন্দার সঙ্গে ওই বধূর পরিচয় ছিল। সেই সূত্রে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি ভুয়ো এনজিও চক্রের সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগ করে। পরে তার সঙ্গে চক্রের চুক্তি হয়। বধূকে এনে দেওয়ার জন্য প্রায় ৩০ হাজার টাকাও নেয় মহিলাদের এই চক্র। তারপরই তারা শুক্রবার পুরশুড়ায় আসে। এখান থেকে তারা ওই বধূকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু, মাঝপথে পুলিশ চলে আসায় সব প্ল্যান ভেস্তে যায়। ধৃতদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, তোলাবাজির মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুরশুড়ার ওই বধূর স্বামী বলেন, আমরা কৃষিজীবী। ওইদিন দুপুরে মাঠ থেকে ঘরে ফিরে কাজ করছিলাম। সেই সময় ওই পাঁচ মহিলা এসে আমাদের নামে খোঁজ করতে থাকে। আমরা কিছুটা চমকে যাই। এরপর এক ব্যক্তির নাম করে আমার স্ত্রী-র সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলে ব্ল্যাকমেল করতে থাকে। মামলা করার নাম করে অনেক টাকা চায়। কিন্তু, ওই পরিমাণ টাকা দিতে পারিনি। আতঙ্কে দু’হাজার টাকা দিই। তখন ওরা আমার স্ত্রীকে টানা হেঁচড়া করতে থাকে। নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সে এখন অন্তঃসত্ত্বা। সন্দেহ হওয়ায় থানায় খবর দিয়েছিলাম। পুলিশ ওই মহিলাদের গ্রেফতার করায় বুঝতে পারি