• ডিউটির সময় প্রাইভেট প্র্যাকটিস চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিএমওএইচের দ্বারস্থ বাসিন্দারা
    বর্তমান | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: অনুমতি ছাড়া কোনও ধরনের প্রাইভেট প্রাকটিস করা যাবে না। চিকিৎসকদের জন্য চলতি বছরের শুরুতে নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর। কিন্তু সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সরকারি ডিউটি আওয়ার্সে বাইরে চুটিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। এমনই দাবি তুলে শনিবার মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালের বিএমওইচকে গণস্বাক্ষর সহ স্মারকলিপি দিলেন এলাকার মানুষজন। সেইসঙ্গে এই হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

    সরকারি চিকিত্‍সকদের মধ্যে একটা বড় অংশ খাতায়কলমে ‘নন-প্র্যাকটিসিং’ হয়েও নিয়মিত বাইরে রোগী দেখেন এবং ভিজিটও নিয়ে থাকেন। মেডিক্যাল কলেজের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত ছোট সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যেই প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার প্রবণতা রয়েছে। তাঁরা বেতনের সঙ্গে প্রতি মাসে বেসিকের ২৫শতাংশ হারে এনপিএ বা নন প্র্যাকটিসিং ভাতা নিচ্ছেন, তা সত্ত্বেও প্র্যাকটিস করছেন। যার ফল ভুগতে হচ্ছে সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের। মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালের রোগীদের একাংশ এনিয়ে সরব হয়েছেন। 

    এলাকার বাসিন্দা সোহেল শেখ, ইমতিয়াজ আলি, ফিরোজ আলি, আলি হায়দাররা বলেন, তিনজন চিকিৎসক হাসপাতালে ঠিকমতো ডিউটি করছেন না। নিয়মিত হাসপাতালে আসেনও না। ডিউটি আওয়ার্সে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকছেন তাঁরা। কখনও হাসপাতালে এলেও রোগী দেখেন না। এক চিকিৎসক স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় অত্যন্ত বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে চলেন। রোগী ও তাঁদের পরিবারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং হুমকি দেন। এলাকার বাসিন্দারা আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালের সমস্ত কাজ মিটিয়ে তারপরই প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন চিকিৎসকরা, স্বাস্থ্যদপ্তরের নির্দেশিকায় তা রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালে ডাক পড়লে তৎক্ষণাৎ তাঁকে আসতে হবে। কিন্তু এখানে নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হাসপাতালের ডিউটি আওয়ার্সে চিকিৎসকদের একাংশ চুটিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করলেও কর্তৃপক্ষ নিশ্চুপ। শুধু তাই নয়, সরকারি কোয়ার্টারে বেআইনিভাবে বাইরের লোকজনকে থাকতে দেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল জন্ম সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে না। পুরো হাসপাতাল চত্বর নোংরা আবর্জনায় ভরে উঠেছে। 

    যদিও বিএমওইচ অভিজিৎ মণ্ডল বলেন, অধিকাংশ চিকিৎসক ঠিকমতো ডিউটি করছেন। একজন চিকিৎসক তা করছেন না। রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ খারাপ করছেন বলে অনেকদিন ধরেই মৌখিকভাবে শুনে আসছি। তাঁকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু উনি শুনছেন না। এবার লিখিত অভিযোগ পেলাম। সিএমওএইচের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। পাশাপাশি তিনি বলেন, এসআইআর চলায় ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট পেতে চেয়ে প্রচুর আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু এই বিভাগে কর্মী মাত্র একজন। যতগুলির রেকর্ড পাচ্ছি সেটা দিচ্ছি। যারা অনেক আগে জন্মেছে, এখানে রেকর্ড পাচ্ছি না সেগুলির ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম মেনে জেলার রেকর্ড সেকশনে তথ্য চেয়ে আবেদন করছি। সেক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগছে। কিন্তু দেওয়া হচ্ছে না এই অভিযোগ ঠিক নয়। বাকি অভিযোগগুলিও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিএমওএইচ। 

    এদিন এলাকার বাসিন্দারা বলেন, সাতদিনের মধ্যে অনিয়ম বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। 
  • Link to this news (বর্তমান)