নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: হোটেল ব্যবসার আড়ালে রমরমিয়ে চলছে কয়লা কারবার। ইসিএল, সিআইএসএফ ও পুলিশের অভিযানে পর্দা ফাঁস কুলটিতে। চিত্তরঞ্জন-আসানসোল মূল রাস্তার উপরই রয়েছে একটি বড় হোটেল। তার পিছনেই অবৈধ কয়লা ডিপোর হদিশ পায় ইসিএলের সিকিউরিটি বিভাগ। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয় অভিযান। শনিবার বিকেল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৫১২ মেট্রিক টনের বেশি কয়লা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। হোটেল মালিক ধনঞ্জয় পাত্র ও মনোরঞ্জন পাত্রের নামে কুলটি থানার চৌরঙ্গি ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ইসিএল। হোটেল ব্যবসায়ী দুই ভাইকে কয়লা সিন্ডিকেটের কিংপিন হিসেবে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এসিপি জাভেদ হোসেন বলেন, ইসিএল একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অভিযুক্ত ব্যবসায়ী ধনঞ্জয় পাত্রের দাবি, কয়লা সিন্ডিকেটের যারা প্যাড চালায় তারা কেউ কয়লা রেখে থাকতে পারে। এবিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।
কয়েক দিন আগেই বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানায় ইডি অভিযান চালায়। সেখানে বড় কয়লা সিন্ডিকেটের অভিযোগ সামনে এসেছিল। ইডি অফিসাররা উল্লেখ করেছিলেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মদতেই অবৈধ কয়লা কারবার চলছে। সেই অভিযানের পর এই প্রথম এর বড় অভিযান হল। জানা গিয়েছে, চৌরঙ্গি থেকে ডুবুরডিহি চেকপোস্ট পর্যন্ত জাতীয় সড়কের পাশে বিভিন্ন ফ্যাক্টরি, হোটেলের পিছনের অংশে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ কয়লা ডিপো। এই কারবারে বড় ভূমিকা রয়েছে হোটেল মালিক ও বিভিন্ন কারখানার মালিকদের। ওই হোটেল নিয়েও স্থানীয় মানুষেরও অভিযোগ ছিল। অনেকেই নজরে ছিল হোটেলের পিছনে বাঁশ ঘিরে রাখা হয়েছে বিশাল এলাকা। অভিযোগ, এই এলাকার বড় অবৈধ কয়লা ডিপোর মধ্যে এটি একটি।
এদিনের অভিযানে মজুত বিপুল পরিমাণ কয়লা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অনেকের মতে এটি হিমশৈলের চূড়া মাত্র। ইডির অভিযানের পর নিজেদের সক্রিয়তা প্রমাণ করতেই এই প্রচেষ্টা। প্রতিদিন এর থেকে বহু গুণ বেশি কয়লা জাতীয় সড়ক দিয়ে পাচার হয়ে যায়। ইডি অভিযানের পর কিছুদিন তা বন্ধ রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই রাস্তার উপর দিয়েই বনজেমারি সাইডিংয়ে ইসিএলের কয়লা যায়। ইসিএল সিআইএসএফের কড়া নজরদারি থাকে এই এলাকায়। এছাড়া এই হোটেলের কিছুটা দূরে রয়েছে চৌরঙ্গি পুলিশ ফাঁড়ি। তারপরও রাস্তার পাশে কী করে কয়লা মজুতের সাহস পেল কারবারিরা।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, রণবীর সিং ও অর্জুন কাপুর অভিনিত গুন্ডে সিনেমায় দেখানো হয়েছিল ছিঁচকে কয়লা চোর থেকে বিক্রম ও বালা কী ভাবে কলকাতার বস হয়ে গিয়েছিল। কান পাতলেই এখানকার বিক্রম, বালাদের গল্প শোনা যায়। যারা একটা সময়ে ইসিএলের ছ’চাকা ডাম্পারে উঠে কয়লা রাস্তায় ফেলে দিত। সেই কয়লা জড়ো করে বিভিন্ন কোক ফ্যাক্টরিতে বিক্রি করা হতো।
তারাই ধীরে ধীরে কয়লা কারবারের বস হয়ে উঠেছে। প্রভাবশালীদের মাথায় হাত থাকায় মাফিয়ারা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উপর জমি কিনছে। কেউ হোটেল গড়ছে, কেউ তৈরি করছে কারখানা। সালানপুরের আশেপাশে প্রাসাদ প্রমাণ বাড়ি বানাচ্ছে, যারা একটা সময় দু’বেলা পেট ভরে খেতে পেত না।