ভাতারে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মহিলার মৃত্যু এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক, দাবি পরিবারের
বর্তমান | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভাতারের ভূমশোড় গ্রামে এক মহিলার অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। মৃতার পরিবারের দাবি, এসআইআরের আতঙ্কেই তিনি গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মাস্তরা খাতুন(৪০) নামে ওই মহিলা ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করার পর থেকে আতঙ্কে ছিলেন। কোনও কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ চলে গেলে কী হবে, তা নিয়ে তিনি চিন্তা করতেন। চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন। ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। যুব তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সায়নী ঘোষ, বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী, যুব তৃণমূলের সভাপতি রাসবিহারী হালদার সহ শাসক দলের একটি প্রতিনিধি দল তাঁদের বাড়িতে যায়।
রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, নির্বাচন কমিশন আর কত মৃত্যু দেখবে। মানসিক চাপে ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে তাঁর পরিবারের লোকজন আমাদের জানিয়েছেন।
মৃতার দিদি আস্তরা খাতুন বলেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা রেশন বন্ধ হয়ে যাবে বলে বোন সব সময় আতঙ্কে থাকত। ফর্ম জমা দেওয়ার পরও তার আতঙ্ক কাটেনি। শুক্রবার রাতে ও বাড়ির মধ্যেই গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করে।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, মস্তরার বিয়ে হয়নি। তিনি দাদা, বউদির সঙ্গেই থাকতেন। দাদা পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। আর্থিক অবস্থা ততটা ভালো নয়। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা তিনি পেতেন। তাঁর ধারণা ছিল, কোনও কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে তিনি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। সেটা বন্ধ হয়ে গেলে আর্থিকভাবে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হতেন।
স্থানীয়রা বলেন, তাঁর কাছে বৈধ নথি ছিল। ২০০২ সালে তাঁর বাবার নামও ছিল। তারপরও তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। এসআইআর নিয়ে সব জায়গাতেই আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকের কাছে সঠিক তথ্য নেই। সেই কারণে তাঁরা আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। মানসিক অবসাদে ভুগে তাঁরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা বলেন, তৃণমূল এসআইআর নিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে। ওরা জানে এসআইআর হলে ওদের সর্বনাশ হবে। সেই কারণেই মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে জামালপুরেও একজন এসআইআর আতঙ্কে মারা যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল। শাসক দল তারপাশেও দাঁড়ায়।